আমিশা প্যাটেল চেক বাউন্স মামলার জটিলতায় জড়িয়েছেন

অভিনেত্রী আমিশা প্যাটেল এই চেক বাউন্স মামলায় আইনি জটিলতায় জড়িয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি একটি ইভেন্টে অংশ নেওয়ার জন্য নেওয়া ১৪ লাখ ৫০ হাজার রুপি অর্থ প্রদানের পরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি। এর পাশাপাশি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা দাবি করে মুম্বাই ফিরে যান। পরবর্তীতে ১০ লাখ রুপি ফেরত দিলেও বাকি সাড়ে ৪ লাখ রুপি ফেরত দেওয়ার জন্য প্রদত্ত চেকটি বাউন্স হয়ে যায়।

মামলাকারী পবন ভার্মা দাবি করেছেন, বকেয়া টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও আমিশা তা পূরণ করেননি। মোরাদাবাদ আদালত একাধিকবার তাকে হাজির হওয়ার জন্য তলব করলেও তিনি উপস্থিত হননি। গত সোমবারের নির্ধারিত শুনানিতেও অনুপস্থিত থাকার কারণে আদালত তার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। আদালত তাকে ২৭ মার্চ সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন ‘গাদার টু’ খ্যাত অভিনেত্রী আমিশা প্যাটেল। তিনি জানিয়েছেন, এটি ১৫ বছর আগের ঘটনা এবং সমস্ত পাওনা অর্থ সই-সাবুদসহ মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, মামলাকারী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, তার আইনজীবীরা বিষয়টি দেখছেন এবং ইতিমধ্যেই ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা শুরু হয়েছে।

আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চেক বাউন্স সংক্রান্ত মামলায় হাজিরা এড়িয়ে যাওয়াকে আইনত গুরুতর বিবেচনা করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে অভিনেত্রীকে আদালতে হাজিরা দিতে হবে, নইলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

এই ঘটনায় বলিউড ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল আলোচনা চলছে। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিন পুরনো বিতর্ক নতুনভাবে সামনে আসায় আমিশার পেশাদার জীবনেও প্রভাব পড়তে পারে। তবে অভিনেত্রী ইতিমধ্যেই আইনি প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। ভক্তরা সোশ্যাল মিডিয়ায় সমর্থন জানাচ্ছেন এবং আশা করছেন, আইনি জটিলতা শিগগিরই সমাধান হবে।

আইনি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, চেক বাউন্সের ক্ষেত্রে অভিযোগ প্রমাণের পাশাপাশি প্রতিপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিও গুরুত্বপূর্ণ। আমিশার পক্ষের দাবি অনুযায়ী, সমস্ত অর্থ লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে এবং মামলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আদালতে উভয় পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণ উপস্থাপনার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।

এই ঘটনা বলিউডে আর্থিক লেনদেন ও প্রতারণার মামলার গুরুত্বকেও পুনর্ব্যাখ্যা করেছে। অভিনেত্রীদের ব্যক্তিগত ও পেশাদার জীবনের সঙ্গে আইনি বিষয়গুলো জড়িত থাকে। আমিশা প্যাটেলের এই আইনি পরিস্থিতি চলচ্চিত্র জগৎ ও মিডিয়াতে দীর্ঘদিন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে থাকবে।

-বিথী রানী মণ্ডল