বিএনপির একক শপথ গ্রহণের রেশ কাটতে না কাটতেই দুপুর সাড় ১২টার দিকে সংসদ ভবনের শপথকক্ষে এক ভিন্ন চিত্র দেখা গেল। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত ৬৮ জন সংসদ সদস্য একযোগে সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন।
তাদের এই বিশেষ শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
আজকের শপথ অনুষ্ঠানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল দুই প্রধান মিত্র দলের কৌশলগত ভিন্নতা।
বিএনপি: সকালে বিএনপির ২০৯ জন এমপি কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে তারা অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। সালাহউদ্দিন আহমদের মতে, এটি এখনও সংবিধানে বিধিবদ্ধ হয়নি।
জামায়াতে ইসলামী: জামায়াতের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা কোনো আপত্তি ছাড়াই উভয় পদে শপথ নিয়েছেন। এর মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবের পর রাষ্ট্র সংস্কারের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তাতে জামায়াত সরাসরি অংশীদার হওয়ার স্পষ্ট বার্তা দিল।
এবারের নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৮টি আসন পেয়ে জামায়াতে ইসলামী সংসদে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে সংসদ সদস্যরা শপথ কক্ষে প্রবেশ করেন। শপথ গ্রহণ শেষে তারা একে একে রেজিস্ট্রারে স্বাক্ষর করেন।
দীর্ঘ ১৫ বছর পর জামায়াতে ইসলামী আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় সংসদে ফিরল। এর আগে দলটি ২০০৮ সালের নির্বাচনে মাত্র ২টি আসন পেলেও এবার এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বড় ধরণের জয় পেয়েছে। আজকের এই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সংসদে বিরোধী দলীয় উপনেতা নির্বাচনের বিষয়টিও এখন চূড়ান্ত হওয়ার পথে।
শপথ গ্রহণ শেষে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার শপথ নিয়েছি। জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিটি ধাপে আমরা গঠনমূলক ভূমিকা পালন করব।”
–লামিয়া আক্তার










