ইরানে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবনে আগুন, ‘কঠোর’ হামলার হুমকি ট্রাম্পের

আজ ৯ জানুয়ারি শুক্রবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে গালফ নিউজ জানিয়েছে, ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় ইস্পাহানে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি) ভবনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। তবে ইরানের কঠোর ইন্টারনেট ও মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের কারণে এই তথ্যের স্বাধীন যাচাই করা যায়নি।
দেশটির বিভিন্ন বড় শহর, বিশেষ করে তেহরান, কোম, ইস্পাহান, বন্দর আব্বাস ও বোজনুর্দে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে।ইরান তার সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রেখেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলার হুমকি দিয়েছে। তেহরান বলেছে, কোনো হামলার প্রতিক্রিয়ায় তারা সীমাবদ্ধ থাকবে না এবং আগে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে না। এ ধরণের আক্রমণকে তারা ‘রেড লাইন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভ দমনে যদি ইরান আরও শক্তি প্রয়োগ করে এবং বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব কঠোর’ প্রতিক্রিয়া জানাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সব দিক থেকে প্রস্তুত রয়েছে ইরানের পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করার জন্য।
অপরদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি ‘সর্বোচ্চ সংযম’ দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তবে দেশটিতে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বরাতে নিহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস শেল নিক্ষেপ করছে।

আজ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, ইরান যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের নিশানা করে, তবে সেখানে হস্তক্ষেপের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সব দিক থেকে প্রস্তুত রয়েছে।

এর আগে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর ঘটনায় ইরানকে ‘খুব কঠোরভাবে আঘাত’ করার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। নতুন ওই মন্তব্য তারই ধারাবাহিকতা। দেশটিতে চলমান সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, বেসামরিক নাগরিকসহ উভয় পক্ষে প্রাণহানির খবর পাওয়া যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোয় মার্কিন হামলার পর ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ট্রাম্পের সর্বশেষ হুঁশিয়ারির বিপরীতে ইরান তার সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রেখেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোয় হামলার হুমকি দিয়েছে। তেহরান বলেছে, তারা পাল্টা জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সীমাবদ্ধতা রাখবে না এবং আগে হামলার শিকার হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে না। তার নিরাপত্তা বা ভূখণ্ডে যেকোনো আঘাতকে ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা হিসেবে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিক্ষোভকারীদের ওপর ইরানের ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের’ নিন্দা জানিয়েছে জার্মানি। বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগের সঙ্গেও একাত্মতা প্রকাশ করেছে দেশটি।

অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিদেশি শক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজন ‘উসকানিদাতাকে’ গ্রেপ্তার ও বিপুল পরিমাণ চোরাচালান করা অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশের অর্থনৈতিক দুর্দশার কথা স্বীকার করলেও এ দাঙ্গা উসকে দেওয়ার জন্য ‘বাইরের শক্তিকে’ দায়ী করেছেন।

গালফ নিউজএ, এফপি 

মামুন/