জিমেইল ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত ই–মেইল ও অ্যাটাচমেন্টের গোপনীয়তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ব্যবহারকারীদের অনুমতি ছাড়া গুগল এমন কিছু সেটিংস চালু করেছে, যার মাধ্যমে তাদের ই–মেইল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রকৌশলী ডেভ জোন্সের দাবি, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে সব জিমেইল অ্যাকাউন্টে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি নির্দিষ্ট সুবিধা সক্রিয় রয়েছে। এর মাধ্যমে গুগল ব্যবহারকারীদের ই–মেইল ও সংশ্লিষ্ট নথি স্ক্যান করতে সক্ষম হচ্ছে। জোন্সের অভিযোগের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে গুগলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।
ডেভ জোন্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানান, জিমেইলের ‘স্মার্ট ফিচার’ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে ব্যবহারকারীদের দুই ধাপের সেটিংস পরিবর্তন করতে হয়। প্রথমে কম্পিউটার বা ল্যাপটপে ‘সি অল সেটিংস’ অপশনে গিয়ে ‘টার্ন অফ স্মার্ট ফিচারস ইন জিমেইল, চ্যাট ও মিট’ বন্ধ করতে হবে। এরপর ‘ম্যানেজ ওয়ার্ক স্পেস স্মার্ট ফিচার সেটিংস’ এ গিয়ে অনুমতি বাতিল করতে হবে।
তবে ফিচার বন্ধ করলে ইনবক্সের ‘প্রমোশন’, ‘সোশ্যাল’ ও ‘আপডেট’ বিভাগগুলো অদৃশ্য হয়ে যায় এবং সব ই–মেইল একসঙ্গে প্রদর্শিত হয়, ফলে ইনবক্স অগোছালো হয়ে যায়। বিশেষ করে যাদের ইনবক্সে শতাধিক বা হাজারো ই–মেইল আছে, তাদের জন্য এটি অসুবিধা সৃষ্টি করছে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্ট ফিচারের কারণে জিমেইল ব্যবহারকারীদের সংবেদনশীল তথ্য যেমন আর্থিক তথ্য, স্বাস্থ্যসংক্রান্ত নথি বা ব্যক্তিগত কথোপকথন AI প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার হলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। গুগল দাবি করছে, জিমেইলের বিষয়বস্তু দিয়ে জেমিনি AI প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় না, তবে ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সূত্র: ডেইলি মেইল










