বিক্ষোভে কাঁপছে তেহরান, নিহত ৬

জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে ইরানে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। গত কয়েক দিনের সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ছয়জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থনৈতিক মন্দা ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার চাপে পিষ্ট সাধারণ মানুষ এখন রাজপথে নেমে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার লোরেস্তান প্রদেশের আজনা শহরে বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত তিনজন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, জ্বলন্ত রাস্তা আর গুলির শব্দের মধ্যে বিক্ষোভকারীরা ‘লজ্জা! লজ্জা!’ বলে স্লোগান দিচ্ছেন।
এর আগে চাহারমাহাল ও বাখতিয়ারি প্রদেশের লরদেগান শহরে আরও দুজন নিহত হন। উত্তেজিত জনতা গভর্নরের কার্যালয়, ব্যাংক ও বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় পাথর নিক্ষেপ করলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। অন্যদিকে পশ্চিম ইরানের কুহদাশত শহরে রাতভর সংঘর্ষে ২১ বছর বয়সী এক ‘বাসিজ’ সদস্য (আইআরজিসির স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী) নিহত হয়েছেন বলে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানানো হয়েছে।
ইরানের অর্থনীতি বর্তমানে প্রায় ৪০ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতির মুখে। গত জুন মাসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো ও সামরিক নেতৃত্বের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার পর অর্থনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। গত রবিবার থেকে মুদ্রার দরপতন ও আকাশচুম্বী দামের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ রেখে ধর্মঘট শুরু করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। গত মঙ্গলবার থেকে অন্তত ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বিক্ষোভকারীদের দাবিকে ‘ন্যায্য’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘মানুষের জীবিকার সমস্যা সমাধান না করলে আমাদের পরিণতি ভালো হবে না।’ সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানিয়েছেন, সরকার ট্রেড ইউনিয়ন ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে বসবে।
তবে সংলাপের আশ্বাস দিলেও কর্তৃপক্ষ কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, অর্থনৈতিক দাবিকে কেন্দ্র করে কেউ যদি দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২০২২ ও ২০২৩ সালে মাসা আমিনির মৃত্যুর পর বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখেছিল ইরান। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবারের বিক্ষোভের মূল ভিত্তি অর্থনৈতিক ক্ষোভ, যা দেশটির সরকারের জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

-এম এইচ মামুন