মস্কো-রাশিয়ার শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় দ্বিতীয় এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি)। সংস্থাটি জানায়, হামলার পরপরই সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে পালিয়ে যাওয়া সন্দেহভাজন লিউবোমির কোরবাকে সেখান থেকে গ্রেপ্তার করে রাশিয়ায় প্রত্যর্পণ করা হয়েছে।খবর আলজাজিরার।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস জানায়, কোরবা একজন রুশ নাগরিক। শুক্রবার মস্কোর একটি আবাসিক ভবনের সিঁড়িঘরে রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার উপপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভ্লাদিমির আলেক্সেয়েভের ওপর অতর্কিত হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। হামলায় আলেক্সেয়েভের হাত, পা ও বুকে গুলি লাগে। তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং অস্ত্রোপচার করা হয়েছে বলে রুশ গণমাধ্যম জানিয়েছে।
এফএসবি জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিরাপত্তা সংস্থার সহযোগিতায় দুবাইয়ে কোরবাকে আটক করা হয়। একই ঘটনায় একজন সহযোগীকে মস্কোতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আরেক সহযোগী নারী ইউক্রেনে পালিয়ে গেছে বলে দাবি করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ। হামলার পেছনে থাকা পরিকল্পনাকারীদের খোঁজে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ইউক্রেনকে দায়ী করছে মস্কো
রুশ কর্মকর্তারা এই হামলার জন্য সরাসরি ইউক্রেনকে দায়ী করেছেন। ঘটনাটি ঘটে আবুধাবিতে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে শান্তি আলোচনা শেষ হওয়ার একদিন পর। ওই আলোচনায় বন্দিবিনিময় হলেও যুদ্ধ অবসানে কোনো অগ্রগতি হয়নি। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ হামলাটিকে “সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড” আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি শান্তি আলোচনা ভেস্তে দেওয়ার উদ্দেশ্যে চালানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ার শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের ওপর একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেগুলোর জন্য মস্কো ইউক্রেনকে দায়ী করে আসছে। গত ডিসেম্বরে গাড়িবোমা বিস্ফোরণে লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফানিল সারভারভ নিহত হন। এপ্রিলে মস্কোর উপকণ্ঠে নিজের বাসার কাছে গাড়িতে বোমা বিস্ফোরণে প্রাণ হারান আরেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইয়ারোস্লাভ মোসকালিক। মোসকালিক হত্যাকাণ্ডের পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শীর্ষ রুশ সামরিক কর্মকর্তাদের ‘নির্মূল’ বিষয়ে অবহিত হওয়ার কথা বললেও কোনো নির্দিষ্ট নাম উল্লেখ করেননি।
যুদ্ধ ও শান্তি আলোচনা
এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উত্তর-পূর্ব ইউক্রেনের খারকিভ ও সুমি অঞ্চলে আরও দুটি গ্রাম দখল করেছে রুশ বাহিনী। মস্কোর আশা, সামরিক অগ্রগতি শান্তি আলোচনায় তাদের অবস্থান শক্তিশালী করবে। আলোচনার প্রধান বাধা হিসেবে পূর্ব ইউক্রেনের ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ অবস্থানকে উল্লেখ করা হচ্ছে। রাশিয়া দোনেৎস্ক অঞ্চলের অবশিষ্ট নিয়ন্ত্রিত অংশ ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানালেও ইউক্রেন তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ইউক্রেনের প্রধান আলোচক রুস্তেম উমেরভ জানান, আগামী সপ্তাহগুলোতে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার ইউক্রেন ও রাশিয়াকে আগামী জুনের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেন।
-বেলাল হোসেন










