অর্থ আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও মোহাম্মদ মনিরুল মাওলাকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
গতকাল বুধবার বিচারপতি কামরুল হোসেন মোল্লার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে মনিরুল মাওলার পক্ষে শুনানি করেন প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। অন্যদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেন।
মামলার প্রেক্ষাপট ও গ্রেপ্তার গত বছরের ২৩ জুন মোহাম্মদ মনিরুল মাওলাকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এরপর অর্থ আত্মসাৎ ও উৎস গোপনের অভিযোগে তাকে ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সেই থেকে তিনি কারান্তরীণ রয়েছেন।
১ হাজার ৯২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মনিরুল মাওলাসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করে দুদক। মামলার অন্যতম প্রধান আসামি এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যানের ছেলে আহসানুল আলম।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে নথিপত্র তৈরি করে ইসলামী ব্যাংক থেকে এক হাজার ৯২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তা আত্মসাৎ করেছেন। পরবর্তীতে আত্মসাৎকৃত অর্থের প্রকৃত উৎস গোপন করতে তারা অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করেছেন বলে দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে।
দুদকের উপ-পরিচালক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. ইয়াসির আরাফাত তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, জালিয়াতির এই প্রক্রিয়ায় ব্যাংকের শীর্ষ পদে থেকে মনিরুল মাওলা সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। আদালতের জারি করা এই রুলের পর তার জামিন পাওয়া না পাওয়ার বিষয়টি এখন সরকারের জবাবের ওপর নির্ভর করছে।