ট্রাম্পের ‘ওয়াইএমসিএ নাচ’ নকল করে বিপাকে মাদুরো

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলার আটককৃত নেতা নিকোলাস মাদুরো জনসম্মুখে তাঁর নাচের ভঙ্গি নকল করার চেষ্টা করতেন। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ওয়াশিংটনের নবনামকরণকৃত ‘ট্রাম্প-কেনেডি সেন্টার’-এ (সাবেক কেনেডি আর্টস সেন্টার) রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই মন্তব্য করেন।

নিউইয়র্ক টাইমসের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ট্রাম্প এই প্রসঙ্গের অবতারণা করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০২৫ সালের শেষদিকে ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধির সময় মাদুরো নিয়মিত মঞ্চে ‘নো ওয়ার, ইয়েস পিস’ স্লোগানের টেকনো রিমিক্সের তালে নাচতেন। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের কাছে মাদুরোর এই নাচানাচিকে মার্কিন হুমকির প্রতি প্রকাশ্য ‘চ্যালেঞ্জ’ এবং ব্যঙ্গ হিসেবে মনে হয়েছিল। কর্মকর্তাদের মতে, মাদুরোর এই নির্ভার ভঙ্গিই শেষ পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্তকে ত্বরান্বিত করে।

ট্রাম্প হাসিমুখে সমাবেশে বলেন, “সে মঞ্চে উঠে আমার নাচের ভঙ্গি নকল করার চেষ্টা করত। কিন্তু সে একজন সহিংস লোক, যে নিজ দেশের লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে।” ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে, কারাকাসে মাদুরো বাহিনীর একটি ‘নির্যাতন কক্ষ’ ছিল যা এখন বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

ট্রাম্প যে স্থানে দাঁড়িয়ে এই বক্তব্য দেন, তার নাম পরিবর্তন নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক বিতর্ক চলছে। ট্রাম্প মনোনীত পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তে ঐতিহাসিক ‘জন এফ. কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস’-এর নাম বদলে এখন রাখা হয়েছে ‘ট্রাম্প-কেনেডি সেন্টার’। যদিও ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এই নাম পরিবর্তনকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে আদালতে মামলা করেছেন, তবে ভবনের বাইরের দেয়ালে ইতিমত্যেই ট্রাম্পের নাম যুক্ত করা হয়েছে।

ভাষণের এক পর্যায়ে ট্রাম্প রসিকতা করে বলেন, “সে (স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প) আমার নাচ পছন্দ করে না।” মূলত ২০২৬ সালের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণা ও দলের নীতিগত অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরতেই এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। ৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে গত ৩ জানুয়ারি মাদুরোকে আটকের জন্য পরিচালিত বিশেষ বাহিনীর অভিযানের প্রশংসা করে একে ‘ব্রিলিয়ান্ট’ বলে অভিহিত করেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মাদুরোকে আটকের পর ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদ ও ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে স্পষ্ট কোনো রূপরেখা না দিলেও, ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক ও ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গি আসলে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের মন জয়েরই একটি অংশ।

-এম. এইচ. মামুন