আদালতের রায়ে জিমি লাইয়ের জালিয়াতি দণ্ড বাতিল

হংকংয়ের একটি আপিল আদালত গণতন্ত্রপন্থী  মিডিয়া প্রভাবশালী ব্যক্তি  জিমি লাই–এর বিরুদ্ধে দেওয়া জালিয়াতির দণ্ড বাতিল করেছেন। জাতীয় নিরাপত্তা আইনে ২০ বছরের কারাদণ্ড ঘোষণার কয়েক সপ্তাহ পর এ রায় এলো, যা পর্যবেক্ষকদের কাছে অপ্রত্যাশিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। খবর আলজাজিরার।

বৃহস্পতিবার আদালত রায়ে বলেন, নিম্ন আদালতের বিচারক মামলার মূল্যায়নে ভুল করেছেন। বিচারকরা লিখেছেন, “আমরা আপিল মঞ্জুর করছি, দণ্ডাদেশ বাতিল করছি এবং সাজা খারিজ করছি।”

আগের জালিয়াতি মামলায় অভিযোগ ছিল, লাইয়ের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য পরিচালিত একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান তার মালিকানাধীন, বর্তমানে বন্ধ হয়ে যাওয়া পত্রিকা অ্যাপল ডেইলি–র ভাড়া নেওয়া অফিস স্পেস ব্যবহার করেছে, যা ভাড়াচুক্তির শর্ত ভঙ্গের সামিল। ২০২২ সালে ওই দুই অভিযোগে লাইকে পাঁচ বছর নয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

একই মামলায় অ্যাপল ডেইলির সাবেক নির্বাহী ওং ওয়াই-কিউংকেও ২১ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আপিল আদালত বলেন, ভাড়াচুক্তির শর্ত লঙ্ঘিত হলেও তা প্রকাশ করার আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল না। এমনকি বাধ্যবাধকতা থাকলেও সেই দায় আইনগতভাবে লাই ও ওংয়ের ওপর বর্তায় না।

এই রায়ের ফলে লাইয়ের মোট কারাভোগের সময় কিছুটা কমবে। জাতীয় নিরাপত্তা মামলায় দেওয়া ২০ বছরের সাজা আংশিকভাবে একসঙ্গে কার্যকর হবে বলে আগেই আদালত জানিয়েছিলেন বিচারকরা। তবে দীর্ঘ সাজা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে যে ৭৮ বছর বয়সী লাই হয়তো জীবনের বাকি সময় কারাগারেই কাটাতে পারেন।

লাইয়ের সন্তানরা আশা প্রকাশ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট  ডোনাল্ট ট্রাম্প –এর আসন্ন বেইজিং সফর তাদের বাবার মুক্তিতে সহায়ক হতে পারে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প ৩১ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত চীন সফরে গিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট  শি জিনপিং–এর সঙ্গে বৈঠক করবেন।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী  ইভেট কুপার বলেছেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চর্চার কারণে লাইকে সাজা দেওয়া হয়েছে এবং মানবিক বিবেচনায় তাকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে চীন ও হংকং কর্তৃপক্ষ বলেছে, জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অধীনে দেওয়া সাজা আইনের শাসনের প্রতিফলন এবং শহরের স্থিতিশীলতার জন্য এ আইন প্রয়োজনীয়।

একই দিনে পৃথক এক রায়ে, হংকংয়ের আরেক আদালত পলাতক গণতন্ত্রপন্থী কর্মী আনা কওকের বাবা কওক ইন-সাংকে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে আট মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন। পলাতক ব্যক্তির সম্পদের সঙ্গে লেনদেনের চেষ্টা করার অভিযোগে এ দণ্ড দেওয়া হয়। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।

-বেলাল