সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘যারা দ্বিতীয়বার বাংলাদেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছে এবং মুক্তভাবে কথা বলার পরিবেশ তৈরি করেছে, সেই তরুণদের অধিকাংশই ছিল জামায়াতের ছেলেরা। আমি প্রথমবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি, তারা দ্বিতীয়বার দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছে—আমরা সবাই একই লক্ষ্যে একত্র হয়েছি। লক্ষ্য একটাই, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।’
এলডিপি সভাপতি স্পষ্ট করে বলেন, এলডিপি ও জামায়াতের মধ্যে কোনো সাংগঠনিক একীভূতকরণ হয়নি। ‘আমরা জামায়াতে যোগ দিইনি, জামায়াতও এলডিপিতে যোগ দেয়নি। আমাদের প্রতীক দাড়িপাল্লা নয়, আমাদের প্রতীক ছাতা।’ তিনি জানান, রাজনৈতিক বাস্তবতায় আসন সমঝোতার সিদ্ধান্ত হয়েছে। যে আসনে এলডিপি প্রার্থী দেবে, সেখানে জামায়াত প্রার্থী দেবে না এবং একইভাবে জামায়াত যেখানে প্রার্থী দেবে, এলডিপি সেখানে প্রার্থী দেবে না।
দেশ পরিচালনার প্রশ্নে বিদেশি প্রভাবের অভিযোগ তুলে অলি আহমদ বলেন, বাংলাদেশ কীভাবে চলবে, তা এ দেশের জনগণই নির্ধারণ করবে। ভারতের সঙ্গে বিরোধ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, দিল্লিতে সিদ্ধান্ত হবে আর বাংলাদেশে তা বাস্তবায়ন করা হবে—এ ধরনের বেঈমানি ও মোনাফেকির রাজনীতিতে তারা জড়াবে না।
ভারতপ্রীতির অভিযোগ এনে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ভারতের দালাল হতে চাই না। যারা দালালি করছে, তাদের চিহ্নিত করুন এবং তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিন। অর্থ, নারীসহ নানা লোভে পড়ে তারা বাংলাদেশকে ভারতের কাছে বিক্রি করতে চায়।’
একই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা মোদির গোলাম হিসেবেও কাজ করব না, অমিত শাহর গোলাম হিসেবেও না। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা ঠিক করবে বাংলাদেশের জনগণ।’
উল্লেখ্য, গত রোববার (২৮ ডিসেম্বর) লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জামায়াত নেতৃত্বাধীন আট দলীয় জোটে যুক্ত হয়। এ নিয়ে জোটটি দশ দলীয় জোট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ওই দিন জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি ঘোষণা করেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।
-মামুন/