আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করবে বলে মনে করে দেশের ৭৭ শতাংশ মানুষ। একইসঙ্গে দলটির প্রতি সরাসরি জনসমর্থন রয়েছে ৭০ শতাংশ ভোটারের। একটি জনমত জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (ইএএসডি) পরিচালিত এই জরিপের ফলাফল গতকাল সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন সেমিনার হলে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করা হয়।
জরিপের সামগ্রিক চিত্র: বিএনপি শীর্ষে, জামায়াত দ্বিতীয়
জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, একক দল হিসেবে নিরঙ্কুশ সমর্থনে এগিয়ে রয়েছে বিএনপি। দলটিকে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ৭০ শতাংশ ভোটার। এরপর ১৯ শতাংশ সমর্থন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। তরুণদের নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ২.৬ শতাংশ সমর্থন। এছাড়া জাতীয় পার্টির প্রতি ১.৪ শতাংশ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতি ০.২ শতাংশ ভোটারের সমর্থন রয়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ১.৫ শতাংশ তাদের সমর্থনের বিষয়ে তথ্য দেননি।
আঞ্চলিক বিশ্লেষণেও এগিয়ে বিএনপি
আঞ্চলিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগে বিএনপির জনপ্রিয়তা সর্বোচ্চ (৭৪%)। তবে বরিশাল (২৯%) ও খুলনা (২৫%) বিভাগে জামায়াতে ইসলামীর শক্তিশালী অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। অন্যদিকে, রংপুর অঞ্চলে জাতীয় পার্টির সমর্থন তুলনামূলক বেশি (৫.২%)।
আওয়ামী লীগের ভোট যাচ্ছে কোথায়?
জরিপে উঠে এসেছে একটি চমকপ্রদ তথ্য। পূর্বে যারা আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছিলেন, তাদের একটি বড় অংশ এবার পরিবর্তনের পক্ষে। এই ভোটারদের মধ্যে ৬০ শতাংশ বিএনপিকে এবং ২৫ শতাংশ জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বাকি ১৫ শতাংশ অন্যান্য দলকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
জরিপের পদ্ধতি ও নির্ভরযোগ্যতা
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জরিপটি দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের ২০ হাজার ৪৯৫ জন ভোটারের ওপর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়েছে। ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ‘কোবো টুলবক্স’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়। জরিপে বয়স, লিঙ্গ, আর্থ-সামাজিক অবস্থান এবং ভোটার ঘনত্বের মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত ও পর্যবেক্ষণ
জরিপ প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্যানেলিস্ট আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যু, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর মতো ঘটনাগুলো ভোটারদের মানসিকতায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, নির্বাচন কমিশনের উচিত ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ব্যাপক সচেতনতামূলক অভিযান চালানো এবং অপতথ্য প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সদস্য মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, “নির্বাচন কমিশনকে এবার অগাধ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, তারা সেই ক্ষমতা ব্যবহার করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে পারে কি না।”
প্যানেলিস্টরা আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে কোনো বড় ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটলে এই জরিপের ফলাফল বদলে যেতে পারে, যেমনটি নিকট অতীতে ডাকসু নির্বাচনসহ বিশ্বের বিভিন্ন নির্বাচনে দেখা গেছে।










