গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসনের ওপর নজরদারি চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে গঠিত নতুন আন্তর্জাতিক কাঠামো ‘বোর্ড অব পিস’-এ যুক্ত হতে তুরস্ক ও মিসরের শীর্ষ নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে এই প্রস্তাব দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
তুরস্ক ও মিসরের সরকারি মহল পৃথকভাবে নিশ্চিত করেছে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে দুই রাষ্ট্রপ্রধানকে শান্তি পর্ষদের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি কায়রো।
গাজা সংকট সমাধানে ট্রাম্প গত বছর একটি শান্তি কাঠামোর কথা প্রকাশ করেন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গাজায় একটি অরাজনৈতিক ফিলিস্তিনি অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠনের কথা বলা হয়, যার কার্যক্রম তদারক করবে একটি আন্তর্জাতিক পর্ষদ। পরবর্তীতে ইসরায়েল ও হামাস এ প্রস্তাবে সম্মতি জানায়।
সম্প্রতি হোয়াইট হাউস শান্তি পর্ষদের প্রাথমিক সদস্যদের তালিকা প্রকাশ করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, জ্যারেড কুশনার এবং বিশ্বব্যাংকের প্রধান অজয় বাঙ্গা। এ ছাড়া জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক দূত নিকোলাই ম্লাদেনভসহ আরও কয়েকজন উপদেষ্টা রয়েছেন।হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই পর্ষদের নেতৃত্ব দেবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই।
এদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, গত শুক্রবার এরদোয়ান ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পের কাছ থেকে আমন্ত্রণপত্র পান। একই সময়ে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আল-সিসিকে দেওয়া প্রস্তাবটি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে অঞ্চলটিতে মানবিক বিপর্যয় চরম আকার ধারণ করেছে। নিহত হয়েছেন হাজার হাজার ফিলিস্তিনি, বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় পুরো জনগোষ্ঠী এবং তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ইসরায়েলের সামরিক কার্যক্রম নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে।
অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, হামাসের হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি ও জিম্মি সংকটের পর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তারা অভিযান চালাচ্ছে।
যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গঠিত শান্তি পর্ষদের আওতায় গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসন প্রথমে মানবিক সহায়তা ও জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে জানানো হয়েছে। তবে হামলা অব্যাহত থাকায় এই উদ্যোগ বাস্তবে কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সন্দেহ রয়ে গেছে।
সাবরিনা রিমি/










