এশিয়ার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আলোকচিত্র উৎসব ‘ছবি মেলা ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অব ফটোগ্রাফি ২০২৬’-এর ১১তম আসর আগামী ১৬ জানুয়ারি থেকে রাজধানী ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে। ১৬ দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক উৎসব চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত এবং এটি সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
শনিবার (১১ জানুয়ারি) ধানমন্ডির দৃকপাঠ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। দৃক পিকচার লাইব্রেরি ও পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের যৌথ আয়োজনে ২০০০ সাল থেকে নিয়মিতভাবে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে, যা বিশ্বজুড়ে অন্যতম অন্তর্ভুক্তিমূলক আলোকচিত্র উৎসব হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
স্থিতিস্থাপকতা ও নতুন সূচনার অঙ্গীকার
সংবাদ সম্মেলনে উৎসবের প্রধান উপদেষ্টা ও বিশ্বখ্যাত আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলম বলেন, “স্থিতিস্থাপকতা ও অঙ্গীকারের ভিত্তিতেই ছবি মেলার জন্ম। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার সময়েও আমরা বিশ্বাস করেছি, এই উৎসব চালিয়ে যেতে হবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি এমন এক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে, যেখানে মানুষ একে অপরের কাজের সঙ্গে নতুনভাবে যুক্ত হচ্ছে এবং স্থায়ী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে।”
উৎসব পরিচালক এ এস এম রেজাউর রহমান জানান, এবারের আসরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘পুনঃ’, যার অর্থ—আবার, নতুন করে কিংবা ভিন্নভাবে। তিনি বলেন, “বিশ্ব যখন একটি নতুন সূচনা খুঁজছে, আমরা সেই চেতনায় ছবি মেলাকে নতুনভাবে কল্পনা করেছি।”
রাজধানীর পাঁচ ভেন্যুতে থাকছে যত আয়োজন
এবারের ছবি মেলা অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার পাঁচটি प्रतिष्ठित ভেন্যুতে—বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, ঢাকা আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ, দৃকপাঠ ভবন এবং জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা।
উৎসবে পাঁচ মহাদেশের ১৮টি দেশের ৫৮ জন শিল্পীর কাজ নিয়ে মোট ৯টি প্রদর্শনী থাকবে। কিউরেটর মুনেম ওয়াসিফ ও সরকার প্রতীক প্রদর্শনীর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
ফিলিস্তিন থেকে ভাষা আন্দোলন: প্রদর্শনীর বিশেষ আকর্ষণ
এবারের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকছে “(আন)লার্নিং প্যালেস্টাইন” শীর্ষক প্রদর্শনী, যা কিউরেট করেছেন ইয়াসমিন ঈদ-সাব্বাহ ও লালেহ বার্গম্যান হোসেন। এতে একটি বিশেষ পাঠকক্ষ থাকবে, যেখানে বই, চিঠি, অঙ্কন ও আলোকচিত্রের মাধ্যমে ফিলিস্তিনের সমৃদ্ধ ইতিহাস তুলে ধরা হবে।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মূল প্রদর্শনীতে অ্যাডাম ব্রুমবার্গ, আর্নেস্ট কোল ও সৈয়দ মোহাম্মদ জাকিরের কাজ প্রদর্শিত হবে, যা ইতিহাস, মানুষ ও পরিবেশের মধ্যকার জটিল সম্পর্ককে তুলে ধরবে।
এছাড়াও, আলেসান্দ্রা সাঙ্গুইনেত্তি, বানি আবিদি ও আমানুল হকের তিনটি একক প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, গ্রামীলেই জীবন এবং কিংবদন্তী চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের বিরল আলোকচিত্রসহ বিভিন্ন আর্কাইভাল ছবি প্রদর্শিত হবে। ‘ঢেউ’ শিরোনামে ছবি মেলা ফেলোশিপপ্রাপ্ত নয়জন তরুণ শিল্পীর কাজও এবারের উৎসবে স্থান পাচ্ছে।
ছবি মেলা একটি অলাভজনক উদ্যোগ, যা সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় এবং ঢাকা আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ, ব্রিটিশ কাউন্সিল, গ্যোথে ইনস্টিটিউটসহ ১৬টির বেশি অংশীদার প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় পরিচালিত হচ্ছে।










