শরীয়তপুরে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনাকে ভারতের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলো ‘সাম্প্রদায়িক সহিংসতা’ হিসেবে প্রচার করেছে বলে জানিয়েছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম ‘বাংলাফ্যাক্ট’।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) বাংলাফ্যাক্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে, একটি অপরাধমূলক হত্যাকাণ্ডকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাম্প্রদায়িক রং দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট
বাংলাফ্যাক্টের অনুসন্ধান অনুযায়ী, গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় খোকন চন্দ্র দাস নামে এক ব্যক্তির ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। তাকে কুপিয়ে আহত করার পর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালে গত ৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মামলার এজাহার, নিহতের বাবার বক্তব্য এবং খোদ ভুক্তভোগীর মৃত্যুর আগে দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, ঘটনাটি ছিল মূলত একটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা। হামলাকারীদের চিনে ফেলায় প্রমাণ লোপাট করতে খোকন চন্দ্র দাসের ওপর এমন নৃশংস হামলা চালানো হয়। বাংলাফ্যাক্ট জানিয়েছে, এটি কোনোভাবেই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত অপরাধমূলক হত্যাকাণ্ড।
ভারতীয় গণমাধ্যমের ভূমিকা
বাংলাফ্যাক্ট জানায়, ভারতের প্রথম সারির একাধিক গণমাধ্যম—যেমন দ্য হিন্দু, এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে, টাইমস অব ইন্ডিয়া, এবং টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া—এই ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হিসেবে উপস্থাপন করে সংবাদ প্রকাশ করেছে, যেখানে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয়ের যোগসূত্র টানা হয়েছে।
স্থানীয় সাংবাদিক ও ফ্যাক্ট-চেকারদের বক্তব্য
কালের কণ্ঠের ডামুড্যা প্রতিনিধি মাহাদি হাসান বাংলাফ্যাক্টকে নিশ্চিত করে বলেন, “এটা সম্পূর্ণ একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা। ভিক্টিমের পরিবারও শুরু থেকে এটিকে ছিনতাইয়ের ঘটনা বলেই দাবি করে আসছে।”
ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, গত বছর থেকে ভারতীয় গণমাধ্যম এবং ভারত থেকে পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ঘিরে ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচার ছড়ানোর প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দল ও সংগঠনকে লক্ষ্য করে এসব অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
বাংলাফ্যাক্টের ভূমিকা
বাংলাদেশে চলমান গুজব, ভুয়া খবর ও অপতথ্য প্রতিরোধ করে জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে পিআইবি-এর অধীনে কাজ করছে বাংলাফ্যাক্ট। প্রতিষ্ঠানটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া শত শত ভুল ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য শনাক্ত করে সঠিক তথ্য প্রচারে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।










