নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা ও একটি অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিশেষ ক্ষমতা ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, নির্বাচনের দিন শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভোটকেন্দ্রসহ যেকোনো স্থানে প্রবেশ করতে পারবেন।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ১৯তম সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচনী প্রস্তুতি ও কঠোর হুঁশিয়ারি
উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনের সময় মাঠ পর্যায়ে সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাকে আরও সক্রিয় ও সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানে অটল। যারা এই নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করবে, তারা কোনোভাবেই সফল হবে না। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
সভায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দ্রুত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি রাজনৈতিক দল ও জনসাধারণকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান উপদেষ্টা।
শহীদ হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট ৭ জানুয়ারি
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির যোদ্ধা শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন উপদেষ্টা। তিনি জানান, এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আগামী ৭ জানুয়ারি আদালতে জমা দেওয়া হবে।
অপারেশন ডেভিল হান্ট: গ্রেপ্তার ৩৩ হাজারেরও বেশি
গত ১৩ ডিসেম্বর শুরু হওয়া ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’-এর সফলতার চিত্র তুলে ধরে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, গত ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত এই অভিযানে ১৪ হাজার ৫৬৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে নিয়মিত মামলা এবং পূর্বের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মিলিয়ে এই সময়ে মোট ৩৩ হাজার ৮০৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ২০১টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১ হাজার ৫৪১ রাউন্ড গুলি, ৫৬৬টি কার্তুজ, ১৬৫টি দেশীয় অস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ গ্রেনেড, মর্টার শেল, বারুদ ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তল্লাশি চৌকি (চেকপোস্ট) এবং টহল আরও জোরদার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
অন্যান্য সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা
সভায় দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে:
-
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম: গুজব ও অপপ্রচার রোধে কঠোর নজরদারি।
-
সীমান্ত নিরাপত্তা: বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার এবং চোরাচালান ও মাদক পাচার রোধ।
-
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি: যেকোনো মূল্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি নিশ্চিত করা।
-
সড়ক নিরাপত্তা: ঘন কুয়াশার মধ্যে চালকদের বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালানোর পরামর্শ।
ব্রিফিংয়ের সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।










