পৃথিবীর চারপাশের কক্ষপথে মানুষের তৈরি বিপজ্জনক আবর্জনার পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। ব্যবহৃত রকেটের অংশ, অচল স্যাটেলাইট ও ভাঙা যন্ত্রাংশে ভরা এই মহাকাশ আবর্জনা এখন আর শুধু প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়; মানব মহাকাশযাত্রার নিরাপত্তার জন্য এটি বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক একটি ঘটনা সেই ঝুঁকিকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, বর্তমানে পৃথিবীর কক্ষপথে প্রায় ১৩ কোটি ছোট-বড় ধ্বংসাবশেষ উচ্চগতিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এসবের বড় অংশ তৈরি হয়েছে রকেট বিস্ফোরণ, পরিত্যক্ত স্যাটেলাইট এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ধ্বংস করা মহাকাশযান থেকে। এসব বস্তুর পারস্পরিক সংঘর্ষে আরও নতুন আবর্জনা তৈরি হচ্ছে। এই ধারাবাহিক সংঘর্ষের প্রক্রিয়াকেই ‘কেসলার সিনড্রোম’ বলা হয়, যার ধারণা প্রথম উঠে আসে ১৯৭৮ সালে।
গত ৫ নভেম্বর চীনের শেনঝৌ-২০ মহাকাশযানের নভোচারীরা নিজ দেশের স্পেস স্টেশন থেকে ফেরার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় যানের জানালায় সূক্ষ্ম ফাটল দেখতে পান। পরে তদন্তে জানা যায়, মহাকাশে ভাসমান ক্ষুদ্র ধ্বংসাবশেষের আঘাতেই এই ক্ষতি হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে তখনই যানটি পৃথিবীতে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় চীন ২৫ নভেম্বর বিকল্প হিসেবে একটি মানববিহীন শেনঝৌ-২২ কার্গো যান পাঠায়। শেষ পর্যন্ত নভোচারীরা শেনঝৌ-২১ মহাকাশযানে করে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসেন। এটি ছিল চীনের স্পেস স্টেশন কার্যক্রমে প্রথমবারের মতো বিকল্প প্রত্যাবর্তন ব্যবস্থা প্রয়োগের ঘটনা।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও মহাকাশ আবর্জনা বিশেষজ্ঞ মরিবা জাহ বলেন, এই ঘটনা মহাকাশ নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। তাঁর মতে, তথ্য বিনিময়ের স্বচ্ছতা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অভিন্ন নীতিমালা ছাড়া ভবিষ্যতে এই ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, মহাকাশ ব্যবস্থাপনায় দ্রুত সমন্বিত ও জবাবদিহিমূলক উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যৎ মহাকাশ অভিযান ও মানব যাত্রা গুরুতর হুমকির মুখে পড়বে।
আফরিনা সুলতানা/










