কুড়িগ্রামে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ: ঘন কুয়াশায় স্থবির জনজীবন

কুড়িগ্রামে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। উত্তুরে হিমেল হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টির মতো ঝরতে থাকা ঘন কুয়াশায় সীমাহীন কষ্টে পড়েছেন উত্তরের এই জনপদের মানুষ। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও শ্রমজীবী মানুষের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।
তাপমাত্রা ও আবহাওয়া পরিস্থিতি রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, গতকাল রোববার (৪ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে। কুয়াশার কারণে মধ্যরাত থেকে দুপুর পর্যন্ত চারদিক ঢাকা থাকছে।
বিপর্যস্ত জনজীবন গত কয়েকদিন ধরে কুড়িগ্রামের আকাশে সূর্যের দেখা মিলছে না বললেই চলে। দিনের অধিকাংশ সময় মেঘ ও কুয়াশার আড়ালে সূর্য ঢাকা থাকায় উত্তাপ পৌঁছাচ্ছে না জনপদে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষি শ্রমিক ও দিনমজুররা। তীব্র শীতের কারণে অনেকেই কাজে বের হতে পারছেন না। হাড়কাঁপানো শীত থেকে বাঁচতে গ্রামীণ জনপদে খড়কুটো জ্বালিয়ে উষ্ণতা নেওয়ার চেষ্টা করছেন অসহায় মানুষ।
অপ্রতুল সরকারি সহায়তা শীত নিবারণে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কম্বল বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম বলে জানা গেছে। দুস্থ ও ছিন্নমূল মানুষের অভিযোগ, হাড়কাঁপানো এই শীতে যে পরিমাণ সহায়তার প্রয়োজন, সরকারি বাজেট সেই তুলনায় অপ্রতুল। ফলে অনেক শীতকষ্টে থাকা মানুষের কাছে এখনো পৌঁছায়নি কোনো গরম কাপড়।
সীমান্তবর্তী এই জেলায় শীতের প্রকোপ আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অফিস। ফলে দ্রুত ত্রাণ তৎপরতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
-লামিয়া আক্তার