চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিস্ময়: বিচ্ছিন্ন কান পায়ে বাঁচিয়ে রেখে সফল পুনঃস্থাপন

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক অনন্য ও অবিশ্বাস্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চীনের শল্যচিকিৎসকেরা। কর্মক্ষেত্রে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এক নারীর কান দীর্ঘ পাঁচ মাস তাঁর পায়ে প্রতিস্থাপন করে বাঁচিয়ে রাখার পর, সফলভাবে তা পুনরায় যথাস্থানে স্থাপন করা হয়েছে। বিশ্বের প্রথম এমন বিরল অস্ত্রোপচারের খবরটি নিশ্চিত করেছে হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনা

চলতি বছরের এপ্রিলে চীনের জিনান শহরে কর্মক্ষেত্রে এক গুরুতর দুর্ঘটনায় ‘সান’ (ছদ্মনাম) নামের এক নারীর কান এবং মাথার খুলির চামড়ার বড় একটি অংশ শরীর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। শানদং প্রাদেশিক হাসপাতালের মাইক্রোসার্জারি ইউনিটের উপপরিচালক কিউ শেনকিয়াং জানান, ভারী যন্ত্রপাতির আঘাতে ঘাড়, মুখ ও মাথার ত্বক কয়েক খণ্ডে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল, যা ছিল অত্যন্ত প্রাণঘাতী।

কেন পায়ে প্রতিস্থাপন?

হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকরা প্রথমে প্রচলিত পদ্ধতিতে কানটি মাথায় লাগানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু দুর্ঘটনার ভয়াবহতায় রক্তনালি ও টিস্যু এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল যে তাৎক্ষণিক প্রতিস্থাপন ব্যর্থ হয়। এই অবস্থায় কানটি পচে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে চিকিৎসকরা একটি দুঃসাহসী সিদ্ধান্ত নেন। কানটিকে সাময়িকভাবে রোগীর পায়ের উপরিভাগে প্রতিস্থাপন করা হয়।

চিকিৎসকদের মতে, পায়ের ধমনি ও শিরার গঠন কানের রক্ত সঞ্চালনের জন্য উপযোগী এবং পায়ের পাতলা ত্বক মাথার ত্বকের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

১০ ঘণ্টার জটিল লড়াই

পায়ে কান প্রতিস্থাপনের এই প্রাথমিক অস্ত্রোপচারটি সম্পন্ন করতে সময় লেগেছিল প্রায় ১০ ঘণ্টা। কানের রক্তনালিগুলো মাত্র ০.২ থেকে ০.৩ মিলিমিটার চিকন হওয়ায় তা সংযুক্ত করা ছিল চরম চ্যালেঞ্জের। অস্ত্রোপচারের পাঁচ দিন পর কানটি কালচে বেগুনি বর্ণ ধারণ করলে চিকিৎসকরা বিশেষ কৌশলে পাঁচ দিনে প্রায় ৫০০ বার রক্তক্ষরণ ঘটিয়ে কানটিকে সচল রাখেন।

পুনরায় যথাস্থানে ফেরা

দীর্ঘ পাঁচ মাস কানটি পায়ের রক্ত সঞ্চালনে জীবিত থাকে। এই সময়ে কৃত্রিমভাবে রোগীর মাথার খুলির ক্ষত সারিয়ে তোলা হয়। গত অক্টোবর মাসে ডা. কিউয়ের নেতৃত্বে আবারও ৬ ঘণ্টার এক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পা থেকে কানটি বিচ্ছিন্ন করে মাথায় সফলভাবে পুনঃস্থাপন করা হয়।

বর্তমান অবস্থা

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রোগী বর্তমানে সুস্থ আছেন এবং তাঁর মুখমণ্ডলের টিস্যুর কার্যক্ষমতা স্বাভাবিক হয়ে আসছে। মাইক্রোসার্জারির এই সাফল্যকে বিশ্বজুড়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের নতুন এক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে তাঁর সৌন্দর্য বর্ধনে আরও কিছু ছোট অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

 

-এম. এইচ. মামুন