গণহত্যায় উসকানির অভিযোগ: ট্রাইব্যুনালে আজ সালমান-আনিসুলের চার্জ শুনানি

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতাকে নির্বিচারে হত্যার উসকানিদাতা হিসেবে অভিযুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে আজ চার্জ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ গতকাল রোববার সকাল ১০টার পর কড়া নিরাপত্তায় তাদের হাজির করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান দমনে এই দুই নেতার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। বিশেষ করে তাদের মধ্যে হওয়া একটি ফোনালাপকে মামলার প্রধান ভিত্তি হিসেবে ধরা হচ্ছে। ওই ফোনালাপে তাদের বলতে শোনা যায়, ‘কারফিউ চলাকালে আন্দোলনকারীদের শেষ করে দিতে হবে।’ চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের দাবি, এই উসকানিমূলক নির্দেশের পরই ঢাকাসহ সারাদেশে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। বিশেষ করে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় ১৫ জনকে হত্যার ঘটনাসহ মোট পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল আজ এ বিষয়ে শুনানি গ্রহণ করবেন। প্রসিকিউশন পক্ষ ইতিপূর্বে তাদের বিরুদ্ধে সব তথ্য-প্রমাণ ও ফরমাল চার্জ দাখিল করেছে যা আদালত আমলে নিয়েছেন।
আজকের শুনানিতে আসামিপক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী অভিযুক্তদের এই মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানাবেন এবং চার্জ গঠনের বিপক্ষে যুক্তি তুলে ধরবেন। উভয়পক্ষের সওয়াল-জওয়াব শেষে আদালত বিচার শুরুর বিষয়ে চূড়ান্ত আদেশ দেবেন।
২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক কারাবন্দি রয়েছেন। গত ৪ ডিসেম্বর তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয় এবং গত ২২ ডিসেম্বর চিফ প্রসিকিউটর তাদের বিচার শুরুর আনুষ্ঠানিক আবেদন জানান।
আজকের এই শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের দৃষ্টি এখন ট্রাইব্যুনালের দিকে, কারণ এই দুই হেভিওয়েট নেতার বিচার শুরু হওয়াকে গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথে একটি বড় ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
-লামিয়া আক্তার