গত বছরে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য ও জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের পাশাপাশি রাজস্ব আয়ে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে কার্গো হ্যান্ডলিং বেড়েছে ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং জাহাজ হ্যান্ডলিং বেড়েছে ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো বন্দরে ৩৪ লাখের বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড গড়া হয়েছে।
২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট ৩৪ লাখ ৯ হাজার ৬৯টি টিইইউএস কনটেইনার এবং ১৩ কোটি ৮১ লাখ ৫১ হাজার ৮১২ টন কার্গো পণ্য হ্যান্ডল করা হয়। এ সময়ে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ২৭৩টি জাহাজ বন্দরে ভেড়ে। কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে সামগ্রিকভাবে প্রায় ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান জানান, কাস্টমসের কলমবিরতি, বিভিন্ন ধর্মঘট ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও বন্দর কার্যক্রম সচল রাখা সম্ভব হয়েছে। তাঁর মতে, নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজন, ইয়ার্ড সক্ষমতা বৃদ্ধি, তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের নিরলস পরিশ্রমের ফলেই এই অগ্রগতি এসেছে।
তিনি আরও জানান, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও জাহাজের অপেক্ষার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে একাধিক দিন জাহাজের অপেক্ষার সময় শূন্য ছিল। বর্তমানে বন্দরে আসা জাহাজগুলো দ্রুত বার্থ সুবিধা পাচ্ছে।
এদিকে চিটাগাং ড্রাইডক লিমিটেড পরিচালিত কনটেইনার টার্মিনালগুলোতেও সাফল্য দেখা গেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সেখানে মোট ৬ লাখ ৯৮ হাজার ৬৬৮ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডল করা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ১৯ শতাংশ বেশি। অক্টোবর মাসে এককভাবে সর্বোচ্চ ২০ দশমিক ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্দরের মোট রাজস্ব আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ আসে জাহাজ সেবা ও পণ্য হ্যান্ডলিং খাত থেকে। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের মোট রাজস্ব আয় দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেশি।
আফরিনা সুলতানা/










