শুরু হয়ে গেছে বিয়ের মৌসুম। কনের ওপর অনুষ্ঠানের আগের দিনগুলোতেও বেশ চাপ পড়ে যায়। কেনাকাটা থেকে শুরু করে বিয়ের অনুষ্ঠানের পরিকল্পনার মধ্যে তারাও এখন জড়িয়ে পড়েন। চার থেকে পাঁচ দিনের আয়োজনের জন্য মাসের পর মাস ধরে প্রস্তুতি চলতে থাকে। চারদিক সামলাতে গিয়ে চেহারায় ধকলের ছাপ পড়ে। বর-কনের নানা প্রস্তুতির মধ্যে রূপচর্চার বিষয়টিও থাকা আবশ্যক, এমনটাই মনে করেন রূপবিশেষজ্ঞরা। না হলে অনুষ্ঠানের দিনগুলোয় মেকআপ দিয়েও চেহারায় উজ্জ্বলতা আনা সম্ভব হয় না। ত্বকের জন্য বিয়ের অন্তত এক মাস আগে থেকে যত্ন শুরু করা উচিত।
ত্বকের যত্ন
দিন শুরু করুন ত্বক পরিষ্কার দিয়ে। আগে ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালো করে মুখ ধুয়ে নিন। সারাদিনই ত্বকে তেল, ঘাম জমতে থাকে। তাই ঠান্ডা পানিতে মুখ ধোয়ার কোনও বিকল্প নেই। তারপর ত্বক অনুযায়ী ফেস ওয়াশ ব্যবহার করুন।
ত্বকচর্চার প্রথম ধাপ ক্লিনজিং, টোনিং ও ময়শ্চারাইজিং এই রুটিনে কনেকে অভ্যস্ত হতে হবে। বিয়ের আগে প্রতিদিনের রুটিনে ক্লিনজিং ও টোনিং থাকতে হবে। নিজের ত্বকের সঙ্গে যায় এমন ক্লিনজিং ও টোনার ব্যবহার করুন। প্রয়োজনে রূপচর্চা বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নিন।
ক্লিনজিং ও টোনিংয়ের পর অবশ্যই ময়শ্চারাইজিং করতে হবে। ত্বককে আর্দ্র রাখা খুবই প্রয়োজন। তাই বিয়ের যত্নে ময়শ্চারাইজারকে ভুলে গেলে চলবে না। নিয়াসিনামাইড বা হায়ালুরনিক অ্যাসিড আছে, এমন কোনও সিরাম বা ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন।
নিত্য এ ধরনের যত্নের পরেও ত্বকের বাড়তি যে দেখভালো প্রয়োজন হয়, তার জন্য ভরসা রাখুন বিশেষ ফেসিয়াল, স্কিন স্পা, ওয়াক্সিং, বডি পলিশিংয়ের উপর। পায়ের যত্ন নিতেও ভুলবেন না। পা ফাটলে ভালো ফুট ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। পা
চুলের যত্ন
চুলের যত্নের ক্ষেত্রে প্রথমেই খেয়াল রাখুন প্রচলিত উপায়ে চুল পরিষ্কারের দিকে। চুলের তেল, শ্যাম্পু, কন্ডিশনার এই হল চুলের সেরা বন্ধু। ২-৩-১০ এই নিয়ম মনে রাখুন। সপ্তাহে দুই দিন হালকা গরম তেল মালিশ, তিন দিন শ্যাম্পু ও সঙ্গে কন্ডিশনার এবং প্রতি দশ দিন অন্তর একটি করে হেয়ার স্পা। বিয়ের দিন চুল সুন্দর ও উজ্জ্বল দেখাতে এই রুটিনের জুড়ি নেই।
চুল কাটার দিকেও সচেতন হতে হবে। বিয়ের মাস দুই আগে চুল ট্রিম করিয়ে নিন। নতুন কোনও কাট নিয়ে এই সময় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন না। যে কাট আগে কেটেছেন ও মুখের সঙ্গে মানানসই হয়েছে সেই কাটই করিয়ে নিন। কালার করার ক্ষেত্রেও সচেতন থাকুন। স্বাভাবিক চুলের ধরন ও রঙের সঙ্গে মেলে এমন কোনো গাঢ় রং বেছে নিতে পারেন। চুলে রং করুন বিয়ের ৫-৭ দিন আগে। চুলে রং করতেই হবে এমন কোনো কথা নেই।
উজ্জ্বল ত্বকের জন্য
কেওলিন পাউডার ও মুলতানি মাটি প্রতিটি অর্ধেক চামচ করে নিয়ে, তার সঙ্গে দুধের সর বা কাঁচা দুধ মিশিয়ে একটি গোলাপের পাপড়ি থেঁতো করে মিশিয়ে দিন। সপ্তাহে দিন দুই এই প্যাক মেখে কিছুক্ষণ রেখে ভালো করে ধুয়ে নিন। এতে ত্বকের দাগছোপ, অনুজ্জ্বল ভাব কমবে। ত্বক নরম হবে। বিয়ের রাতে ত্বকের জৌলুস বাড়বে কয়েক গুণ!
উজ্জ্বল চুলের জন্য
এক মুঠো মেথি, সামান্য মধু ও বাড়িতে লেবু দিয়ে কাটানো ছানা মিলিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। সপ্তাহে এক-দু’দিন এই প্যাক মাথার চুলে ভালো করে মাখিয়ে কিছুক্ষণ রেখে শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাক নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে চুল যেমন পরিষ্কার হবে, চুল কম ঝরবে, তেমনই বিয়ের দিন বাড়তি জেল্লা এনে দেবে চুলের সাজে।
বিয়ের দিন উজ্জ্বল, ঝলমলে ও দাগহীন ত্বক কনেকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। বর হোক বা কনে, বিয়ের আগে থেকেই বিউটি ডায়েট মেনে চলুন এবং জুস পান করুন। যত দূর সম্ভব বাড়িতে তৈরি খাবার খান এবং বাইরের খাবার এড়িয়ে চলুন। ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবার খান, এটি ত্বকের জন্য উপকারী। বেশি করে ফল ও সালাদ খান; পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন। এ কারণে ওজন তো কমবেই, পাশাপাশি ডিটক্সিফিকেশনও হবে, যার ফলে ত্বক হবে উজ্জ্বল ও জীবন্ত। তবে কখনোই বিয়ের আগমুহূর্তে অতিরিক্ত ডায়েট করা উচিত নয়। এতে শরীর দুর্বল হয়ে যেতে পারে। সবশেষে ঘুমোতে যাওয়ার ও ঘুম থেকে ওঠার সময় সঠিক ও নির্ধারিত রাখুন।










