উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় বরাবরই ইউরোপের দেশগুলো শীর্ষে রয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সরকার ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নানাবিধ স্কলারশিপ প্রদান করা হয়। এসব স্কলারশিপের আওতায় টিউশন ফি মওকুফের পাশাপাশি আবাসন, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অনেক ক্ষেত্রে সপরিবারে বসবাসের সুযোগও দেওয়া হয়।
ইউরোপের প্রথম সারির দেশগুলো উন্নত জীবনমান, নিরাপদ পরিবেশ এবং পরিবারবান্ধব নীতির জন্য পরিচিত। বিশেষ করে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলো সামাজিক নিরাপত্তা, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাব্যবস্থার কারণে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত। এ প্রতিবেদনে সুইডেন, ডেনমার্ক, নরওয়েসহ ইউরোপের সাতটি দেশে পড়াশোনার সুযোগ, সম্ভাব্য খরচ ও স্টাডি গ্যাপ–সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরা হলো।
সুইডেন
উচ্চশিক্ষার মান ও জীবনযাত্রার নিরাপত্তায় সুইডেন বিশ্বসেরা দেশগুলোর একটি। এখানে সপরিবারে আবেদনের সুযোগ রয়েছে।
আবেদনের শেষ তারিখ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬।
খরচ: বছরে টিউশন ফি প্রায় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার সুইডিশ ক্রোনা। মাসিক থাকা-খাওয়ার খরচ ৭ হাজার থেকে ১২ হাজার ক্রোনা।
স্টাডি গ্যাপ: সাধারণত ২–৫ বছর পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য।
ডেনমার্ক
ডেনমার্কে পড়াশোনা শেষে চাকরির সুযোগ তুলনামূলক ভালো।
আবেদনের শেষ তারিখ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬।
খরচ: বছরে টিউশন ফি ৬ হাজার থেকে ১৫ হাজার ইউরো, জীবনযাত্রার ব্যয় মাসে ৮০০–১ হাজার ২০০ ইউরো।
স্টাডি গ্যাপ: ২–৭ বছর পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য, প্রাসঙ্গিক কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে সুবিধা বেশি।
নরওয়ে
২০২৩ সাল থেকে নন-ইইউ শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি চালু হয়েছে।
আবেদনের সময়: অধিকাংশ ক্ষেত্রে ১ বা ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫।
খরচ: টিউশন ফি প্রযোজ্য, জীবনযাত্রার ব্যয় মাসে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ ইউরো।
স্টাডি গ্যাপ: কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে বড় গ্যাপও সমস্যা হয় না।
ফিনল্যান্ড
ফিনল্যান্ডে আর্লি বার্ড স্কলারশিপের সুযোগ রয়েছে।
আবেদনের সময়: জানুয়ারি ২০২৬।
খরচ: বছরে টিউশন ফি ৪ হাজার থেকে ১৮ হাজার ইউরো, মাসিক খরচ ৭০০–১ হাজার ইউরো।
স্টাডি গ্যাপ: ৩–৬ বছর পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য।
নেদারল্যান্ডস
এখানে প্রায় সব মাস্টার্স প্রোগ্রাম ইংরেজি মাধ্যমে পড়ানো হয়।
আবেদনের সময়: জানুয়ারি থেকে এপ্রিল ২০২৬।
খরচ: বছরে টিউশন ফি ৮ হাজার থেকে ২০ হাজার ইউরো, জীবনযাত্রার ব্যয় ৯০০–১ হাজার ৩০০ ইউরো।
স্টাডি গ্যাপ: ২–৮ বছর পর্যন্ত যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা থাকলে গ্রহণযোগ্য।
ফ্রান্স
ফ্রান্সের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে টিউশন ফি তুলনামূলক কম।
আবেদনের সময়: জানুয়ারি থেকে মার্চ ২০২৬।
খরচ: জীবনযাত্রার ব্যয় মাসে ৭০০–১ হাজার ১০০ ইউরো।
স্টাডি গ্যাপ: সাধারণত ৪–৬ বছর পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়।
সুইজারল্যান্ড
টিউশন ফি কম হলেও জীবনযাত্রার ব্যয় ইউরোপে সবচেয়ে বেশি।
আবেদনের শেষ তারিখ: জানুয়ারি ২০২৬।
খরচ: বছরে টিউশন ফি ১ হাজার থেকে ৪ হাজার ইউরো, তবে মাসিক থাকা-খাওয়ার খরচ ১ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ইউরো পর্যন্ত হতে পারে।
স্টাডি গ্যাপ: মেধা ও যোগ্যতা থাকলে বড় বাধা নয়।
সপরিবারে যাওয়ার ক্ষেত্রে যা জানা জরুরি
সপরিবারে পড়াশোনার জন্য আবেদন করতে হলে একক শিক্ষার্থীর তুলনায় বেশি ব্যাংক সলভেন্সি দেখাতে হয়। পরিবার নিয়ে থাকার জন্য স্টুডেন্ট হাউজিং পাওয়া কঠিন হওয়ায় প্রাইভেট বাসস্থানের প্রস্তুতি রাখতে হয়, যা ব্যয়বহুল। এছাড়া কিছু দেশে মূল শিক্ষার্থী যাওয়ার কয়েক মাস পর পরিবারের ভিসা দেওয়া হলেও সুইডেন ও ফিনল্যান্ডে একসঙ্গে আবেদনের সুযোগ তুলনামূলক বেশি।
মালিহা নামলাহ










