প্রথম কোয়ালিফায়ারে ডেজার্ট ভাইপার্সের কাছে হেরে ফাইনালের পথ কিছুটা কঠিন হয়ে পড়েছিল এমআই এমিরাটস। তবে দ্বিতীয় সুযোগে আর ভুল করেনি কাইরন পোলার্ডের দল। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে আবুধাবি নাইট রাইডার্সকে ৭ উইকেটে হারিয়ে আইএল টি–টোয়েন্টির ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে এমিরাটস। বাঁচা-মরার এই ম্যাচে ব্যাট ও বল হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করে ম্যাচসেরা হয়েছেন বাংলাদেশি তারকা সাকিব আল হাসান।
অলরাউন্ডার সাকিবের স্বরূপে ফেরা সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাটে রান খরায় ভুগছিলেন সাকিব। শারজায় গত ৯ ম্যাচে (টি-টেন ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে) ৫টিতে ব্যাটিংয়ের সুযোগই পাননি, আর সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল মাত্র ১৭ রানের। তবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জ্বলে উঠলেন অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার। শারজায় প্রথমে বল হাতে ইনিংস ওপেন করে ৪ ওভারে কোনো উইকেট না পেলেও খরচ করেন মাত্র ২০ রান।
পরবর্তীতে ১২১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৩৬ রানে ২ উইকেট হারিয়ে যখন দল চাপে, তখন টম ব্যান্টনের সঙ্গে জুটি বাঁধেন সাকিব। ৫৩ বলে ৮২ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। ১৫৮.৩৩ স্ট্রাইকরেটে ব্যাট করে ৫টি চার ও ১টি ছক্কায় সাজানো সাকিবের ২৪ বলে ৩৮ রানের ইনিংসটি ছিল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া পারফরম্যান্স। অন্যদিকে টম ব্যান্টন ৫৩ বলে ৬৪ রান করে অপরাজিত থাকেন।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত চালচিত্র এর আগে টস জিতে আবুধাবি নাইট রাইডার্সকে ব্যাটিংয়ে পাঠান এমিরাটস অধিনায়ক পোলার্ড। আল্লাহ মোহাম্মদ গজনফার ও ফজলহক ফারুকির নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি জেসন হোল্ডারের দল। শেষ পর্যন্ত ১২০ রানেই গুটিয়ে যায় আবুধাবি। জবাব দিতে নেমে সাকিব ও ব্যান্টনের দৃঢ়তায় সহজেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় এমআই এমিরাটস।
এই ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ৪৬ বারের মতো ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতলেন সাকিব। টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে তার চেয়ে বেশি ম্যাচসেরা হয়েছেন মাত্র তিনজন: ক্রিস গেইল (৬০), গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (৪৮) ও কাইরন পোলার্ড (৪৮)। চলতি আসরে এটি সাকিবের দ্বিতীয় ম্যাচসেরার পুরস্কার।
আগামী ৪ জানুয়ারি শিরোপার লড়াইয়ে ফাইনালে ডেজার্ট ভাইপার্সের মুখোমুখি হবে সাকিবের এমআই এমিরাটস।
-অর্ণব










