রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আইনজীবী নাঈম কিবরিয়াকে পিটিয়ে হত্যার পর দুদিনেও জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার কাজ এগিয়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।
ভাটারা থানার ওসি ইমাউল হক সমকালকে বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ জড়িতদের শনাক্তের কাজ শুরু করেছে। শিগগিরই তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য স্থানগুলোয় অভিযান চালানো হচ্ছে।
নিহতের খালাতো ভাই রাকিবুল ইসলাম শামীম বলেন, ‘পূর্বাচলে আমার বাসায় এসে উঠেছিল নাঈম। বুধবার বিকেল ৩টার দিকে একই গাড়িতে দুজন বসুন্ধরা এলাকায় আমার ভাইয়ের বাসায় গিয়েছিলাম। রাতে ভাই–ভাবি ও আমরা দুজন দুটি গাড়ি নিয়ে চা খেতে বের হই। তখন নাঈম বলে, আমি চা খাব না, ভাইয়ার গাড়ি নিয়ে একটু ঘুরে আসি। এরপর রাত পৌনে ১০টার দিকে তাকে এল–ব্লকে রেখে আমরা বিটুমিন গেটের দিকে যাই। রাত ১০টা ৮ মিনিটে নাঈমের ফোন নম্বর থেকে একটি কল আসে। কিন্তু ওপাশ থেকে কেউ কথা বলেনি। আমি বারবার জিজ্ঞেস করেছি, তুই কোথায়? কোনো উত্তর পাইনি। এরপর ওর নম্বরে বারবার কল দিলেও ধরেনি। পরে বসুন্ধরার একজন নিরাপত্তাকর্মী ফোন করে জানান, নাঈম বসুন্ধরার ১৫ নম্বর সড়কের ওয়ালটন বাড়ি এলাকায় অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। আমরা দ্রুত গিয়ে তাকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
রাকিবুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি দুই–তিন দিন নাঈমের খোঁজে তার পাবনার বাড়িতে মোটরসাইকেল নিয়ে যায় কিছু যুবক। সেখানে পরিবারের কেউ ছিলেন না। তবে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, নাঈমকে পেলে মেরে ফেলা হবে– এমন হুমকি দেয় তারা। এ কারণে ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। বসুন্ধরা এলাকায় পাবনার অনেকে থাকেন। এমন হতে পারে যে, তেমন কেউ নাঈমকে চিনতে পেরেছেন। এরপর মব সৃষ্টি করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের হত্যা মামলায় জামিন নিতে ঢাকায় এসেছিলেন নাঈম।
মামুন/










