শীতকাল এলেই আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে আসে বড় ধরনের পরিবর্তন। ঠান্ডার প্রভাবে ক্ষুধা বাড়ে, পাশাপাশি ভাজাপোড়া ও মিষ্টি জাতীয় খাবারের প্রতি আকর্ষণও বেড়ে যায়। পিঠা-পুলি, তেলে ভাজা নাশতা কিংবা অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার শীতের দিনে এসব খাবার যেন অনিবার্য হয়ে ওঠে। তবে স্বাদে আরাম পেলেও এসব খাবার দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতে শরীর তুলনামূলক কম ঘামে এবং হজম প্রক্রিয়াও কিছুটা ধীর হয়ে যায়। এই সময় অতিরিক্ত তেল ও চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ করলে হজমের সমস্যা, গ্যাস্ট্রিক, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং ওজন বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। অনেকেই শীতের ঠান্ডার অজুহাতে পানি কম পান করেন, যা শরীরে পানিশূন্যতা সৃষ্টি করে এবং ত্বক শুষ্ক হওয়ার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
আরেকটি বড় ভুল হলো শীতকালীন ফল ও সবজি উপেক্ষা করা। বাজারে থাকা গাজর, শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, পালংশাক, মুলা কিংবা কমলালেবু, পেয়ারা, বরইয়ের মতো ফল সহজলভ্য হলেও আমরা অনেকেই এসব খাবারের বদলে ফাস্টফুড বা ভারী খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়ি। অথচ এসব মৌসুমি সবজি ও ফলে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন, খনিজ উপাদান ও আঁশ, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।
শীতে আরেকটি সাধারণ প্রবণতা হলো দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা ও শারীরিক পরিশ্রম কমিয়ে দেওয়া। এর সঙ্গে যদি অনিয়ন্ত্রিত খাবার যোগ হয়, তাহলে শরীরে অলসতা ও ক্লান্তি সহজেই ভর করে। অনেকেই মনে করেন, শীতে শরীরের বেশি ক্যালোরি প্রয়োজন, তাই অতিরিক্ত খাবার খাওয়া ক্ষতিকর নয়। বাস্তবে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করলে তা শরীরে চর্বি হিসেবে জমা হয়।
পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, শীতকালেও সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা জরুরি। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফলমূল, পর্যাপ্ত পানি ও হালকা প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখা উচিত। ভাজাপোড়া ও মিষ্টি খাবার পুরোপুরি বাদ না দিয়ে পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করাই হতে পারে সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর সিদ্ধান্ত। সচেতন খাদ্যাভ্যাসই পারে শীতকালকে সুস্থ ও সতেজ করে তুলতে।
সাবরিনা রিমি/










