চট্টগ্রামের দুর্দান্ত বোলিংয়ে উড়ে গেলো ঢাকা

তারকায় ভরা দল গড়েও পারফরম্যান্সের ধার খুঁজে পাচ্ছে না ঢাকা ক্যাপিটালস। আগের ম্যাচে সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর শামীম হোসেন পাটোয়ারির ব্যাটে যে সামান্য স্বস্তি মিলেছিল, চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে সেটিও কাজে আসেনি। শেষদিকে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের লড়াকু ইনিংসে কোনোভাবে তিন অঙ্ক ছুঁলেও ঢাকার ইনিংস থেমেছে মাত্র ১২২ রানে।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান। তার সিদ্ধান্ত যে কতটা কার্যকর ছিল, তা প্রমাণ হয় ম্যাচের শুরুতেই। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ফিরে যান জাতীয় দলের ওপেনার সাইফ হাসান।

অন্যপ্রান্তে আফগান ওপেনার জুবাইদ আকবরিও ছিলেন চরম অস্বস্তিতে। ১২ বল মোকাবিলা করে মাত্র ২ রান করে তিনিও বিদায় নেন। পরে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন উসমান খান। তিনটি চারের সাহায্যে ১৫ বলে ২১ রান করলেও থিতু হতে পারেননি তিনি। অ্যাডাম রশিংটনের নিখুঁত স্টাম্পিংয়ে ফিরতে হয় তাকে।

এরপর যেন স্টাম্পিংয়ের মিছিল বসান চট্টগ্রামের এই উইকেটকিপার। একে একে মোহাম্মদ মিঠুন, শামীম হোসেন পাটোয়ারি, সাব্বির রহমান ও ইমাদ ওয়াসিম—চারজনই স্টাম্পিংয়ের শিকার হন। রশিংটনের গ্লাভসে ভর করেই আসে চারটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।

মিডল অর্ডারের সম্পূর্ণ ব্যর্থতায় ঢাকার ইনিংস দ্রুতই ভেঙে পড়ে। ছয় নম্বরে নেমেও কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারেননি সাব্বির রহমান। আট নম্বরে নেমে কিছুটা সময় কাটালেও ২০ বলে ১৭ রান করে ফিরে যান তিনি।

শেষভাগে একাই লড়াই করেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ২৫ বলে ৩৭ রানের তার ইনিংসই মূলত ঢাকাকে শতকের ঘর পেরোতে সাহায্য করে। তবে দুই বল বাকি থাকতেই ১২২ রানে গুটিয়ে যায় ঢাকা ক্যাপিটালস।

চট্টগ্রামের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন তানভীর ইসলাম। মাত্র ৮ রান খরচ করে চারটি উইকেট তুলে নেন তিনি। সমান চারটি উইকেট নেন শরিফুল ইসলাম, আর অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান শিকার করেন দুটি উইকেট।

জবাবে ১২৩ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কোনো চাপই নেয়নি চট্টগ্রাম রয়্যালস। শুরুতে দেখে-শুনে খেললেও দ্রুতই আগ্রাসী হয়ে ওঠেন ওপেনার অ্যাডাম রশিংটন ও মোহাম্মদ নাঈম শেখ। দুজনের অবিচ্ছিন্ন ১২৩ রানের জুটিতেই নিশ্চিত হয়ে যায় চট্টগ্রামের জয়।

রশিংটন ৩৬ বলে ৯টি চার ও ২টি ছক্কায় অপরাজিত ৬০ রান করেন। অন্যদিকে নাঈম শেখ ৪০ বলে ৭টি চার ও ১টি ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ৫৬ রানে।