চলচ্চিত্র পুরস্কার এখনও লুকোচুরি খেলছে!

২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের গেজেট প্রকাশ এখনও আটকে আছে। গত ৯ মাস ধরে চূড়ান্ত বিচারকাজ শেষ হলেও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ জমা পড়ার পরও গেজেট প্রকাশ হয়নি। অন্যদিকে ২০২৬ সালের প্রথম দিন পর্যন্ত ২০২৪ সালের পুরস্কার সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি, ছবি আহ্বান করা হয়নি এবং জুরিবোর্ড গঠনও হয়নি। মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার কেউ এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

জুরিবোর্ডের সদস্যরা দেরি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। জ্যেষ্ঠ অভিনেত্রী সুচরিতা বলেন, “আমরা আমাদের দায়িত্ব শেষ করেছি। এখন দায়িত্ব মন্ত্রণালয়ের। বিচারকাজ শেষ হওয়ার এত মাস পরও গেজেট প্রকাশ না হওয়া উচিত নয়।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, ফিল্ম ও ফটোগ্রাফি বিভাগের সভাপতি ও জুরিবোর্ড সদস্য এস এম ইমরান হোসেন বলেন, “দীর্ঘসূত্রতার কারণে জুরিবোর্ড সদস্যদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়, যা আমাদের দায় নয়। গেজেট ঘোষণা করা উচিত, আনুষ্ঠানিকতা পরে করা যায়।”

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০২৩ প্রদানের জন্য গত বছরের সেপ্টেম্বরে জুরিবোর্ড পুনর্গঠন করা হয় এবং নভেম্বরের মধ্যে বোর্ড পূর্ণাঙ্গ রূপ নেয়। এরপর বিচারকরা চলচ্চিত্র দেখার কাজ শুরু করেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে চলচ্চিত্র দেখার কাজ শেষ হয় এবং এরপর বিচারকরা মনোনীত ব্যক্তিদের নাম সুপারিশ করেন। ৪ মার্চ সেই সুপারিশসংবলিত ফাইল চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের মাধ্যমে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। গেজেট প্রকাশের কথা এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে শোনা গেলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের কর্মকর্তা ও মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা জানায়, গেজেট প্রকাশ সম্পূর্ণ মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়। বোর্ডের কাছে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এখনও নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। কবে গেজেট হবে, বলা যাচ্ছে না।”

সংগীতশিল্পী ও জুরিবোর্ড সদস্য নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি বলেন, “সঠিক সময়ের মধ্যে আমরা কাজ শেষ করেছি। আশা করেছিলাম দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ হবে। কিন্তু হয়নি। এত কষ্ট করে বিচারকাজ করেও প্রজ্ঞাপনটি শুনতে না পারা হতাশাজনক।”

২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ৫১টি চলচ্চিত্রের মধ্যে ৪৯টি পুরস্কারের জন্য বিবেচনায় আসে। এসব থেকে ২৮টি বিভাগে পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, আজীবন সম্মাননা পুরস্কারের জন্য যৌথভাবে শবনম ও জাভেদের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।

এভাবে দীর্ঘ সময় ধরে গেজেট প্রকাশ না হওয়া দেশের চলচ্চিত্র জগতে নীরব প্রশ্ন ও হতাশা তৈরি করছে।

বিথী রানী মণ্ডল/