পাত্র দেবমাল্য চক্রবর্তীর সঙ্গে টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী মধুমিতার সম্পর্ক তিন বছরের। এবার সেই সম্পর্কই পরিণতি পেতে চলেছে বিয়েতে। পারিবারিক পরিবেশেই বিয়ের আয়োজন করা হচ্ছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে মধুমিতার এক আত্মীয়ের বাড়িতেই বসবে বিয়ের আসর। ছোটপর্দা ও বড়পর্দার ব্যস্ত শুটিংয়ের মাঝেই চলছে তাঁর প্রাক্-বিবাহ পর্বের প্রস্তুতি, কেনাকাটা আর নানা আয়োজন।
অনেকেই নিজের বিয়েতে মায়ের বিয়ের বেনারসি পরতে ভালোবাসেন। তবে মধুমিতার ক্ষেত্রে বিষয়টি একটু আলাদা। অভিনেত্রী জানালেন, মায়ের শাড়ি তিনি আগেও বহুবার পরেছেন। তাই মায়ের স্পষ্ট নির্দেশ—বিয়ের দিন নতুন শাড়িই পরতে হবে। মধুমিতার ইচ্ছে, বিয়ের দিনে লাল বেনারসি ও সোনার গয়নায় নিজেকে সাজানোর। পুরোপুরি বাঙালি রীতিতেই বিয়ে সারতে চান তিনি। হলদি কিংবা সঙ্গীতের মতো আধুনিক আয়োজন থাকছে না বলেই জানালেন অভিনেত্রী। তবে রিসেপশনে ভিন্ন পোশাকে দেখা যেতে পারে তাঁকে। লেহঙ্গা কিংবা পা-ছোঁয়া গাউন পরার কথাও ভাবছেন মধুমিতা।
বিয়ের প্রস্তুতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ খাবারের আয়োজন। বিয়ের কার্ড ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গেছে, মেনুও প্রায় চূড়ান্ত। কাজের ফাঁকে চলছে আইবুড়ো ভাত খাওয়ার পর্ব। মধুমিতা যেহেতু খাঁটি বাঙালি খাবারের ভক্ত, তাই মেনুতে থাকছে চিংড়ি ও পাঁঠার মাংস। নিজের পছন্দের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, নলেন গুড় তাঁর খুব প্রিয়। তাই নলেন গুড় দিয়ে তৈরি কোনো বিশেষ পদ থাকবেই, যদিও এখনই সব চমক ফাঁস করতে নারাজ তিনি।
বিয়ের দিন যত কাছে আসছে, ততই উত্তেজনা আর দায়িত্বের অনুভূতি বাড়ছে অভিনেত্রীর। মধুমিতা জানান, তিনি ও দেবমাল্য দু’জনেই পরিবারের কনিষ্ঠ সদস্য। বাড়ির বড়দের দায়িত্ব তাঁদের কাঁধেই বেশি পড়ছে, তাই একটু চিন্তাও রয়েছে। বিয়ে উপলক্ষে লম্বা ছুটি নেওয়ার ইচ্ছে আছে তাঁদের। সেই সময়েই মধুচন্দ্রিমায় যাওয়ার পরিকল্পনা। তবে কোথায় যাবেন, সে বিষয়ে আপাতত রহস্যই রাখতে চান মধুমিতা। হাসতে হাসতে তাঁর কথায়, “এখনই সব বলে দিলে বিয়ে নিয়ে আগ্রহটাই বা থাকবে কেন?”
বিথী রানী মণ্ডল/










