২০২৬: ক্রীড়া বিশ্বের মহোৎসব

ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে বিশ্ব পা রেখেছে ২০২৬ সালে। নতুন বছর মানেই নতুন সম্ভাবনা, কিন্তু ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য এই বছরটি কেবল নতুন নয়, বরং হতে যাচ্ছে এক অবিস্মরণীয় মহোৎসবের বছর। ফুটবল বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাট থেকে শুরু করে ক্রিকেটের জোড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ- সব মিলিয়ে ২০২৬ সালটি হতে যাচ্ছে গতির রোমাঞ্চ আর রেকর্ডের ভাঙা-গড়ার বছর। বাংলাদেশের জন্য এই বছরটি একদিকে যেমন বড় টুর্নামেন্টের হাতছানি, অন্যদিকে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের এক বিশাল অগ্নিপরীক্ষা।
ইতিহাসের বৃহত্তম ফুটবল বিশ্বকাপ
বছরের প্রধান আকর্ষণ নিঃসন্দেহে ফিফা বিশ্বকাপ। ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে বসবে ফুটবলের এই আসর। তবে এবারের বিশ্বকাপ অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে আলাদা। প্রথমবারের মতো ৩২ দলের পরিবর্তে অংশ নিচ্ছে ৪৮টি দল। ১৬টি ভেন্যুতে ১০৪টি ম্যাচের এই মহাযজ্ঞ ফুটবল বিশ্বকে এক নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করবে। বাড়তি দলের অন্তর্ভুক্তিতে ছোট দেশগুলোর জন্য যেমন সুযোগ বেড়েছে, তেমনি দীর্ঘ এই টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের ফিটনেস ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। যারযার  প্রিয় দলগুলোর বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে লাতিন আমেরিকা থেকে উত্তর আমেরিকা পর্যন্ত প্রকম্পিত হবে ফুটবল ভক্তদের উল্লাসে।
ক্রিকেটের ডাবল ধামাকা
ক্রিকেট ভক্তদের জন্য ২০২৬ সালটি টি-টোয়েন্টি উন্মাদনার। বছরের শুরুতেই অর্থাৎ ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে অনুষ্ঠিত হবে পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। উপমহাদেশীয় কন্ডিশনে খেলা হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার দলগুলো বাড়তি সুবিধা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ দলের জন্য এটি নিজেদের প্রমাণের বড় সুযোগ।
আবার বছরের মাঝামাঝি সময়ে (জুন-জুলাই) ইংল্যান্ডের মাটিতে বসবে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর। লর্ডস বা ওভালের ঐতিহাসিক ঘাসের উইকেটে মারকুটে ক্রিকেটের লড়াই দেখার অপেক্ষায় বিশ্ব। পুরুষ ও নারী উভয় বিভাগেই বর্তমান ক্রিকেটে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের যে জনপ্রিয়তা, তাতে এই দুটি বিশ্বকাপ আইসিসির জন্য আয়ের বড় উৎস হয়ে দাঁড়াবে।
এশিয়ান গেমস: এশিয়ার অলিম্পিক
ক্রিকেট-ফুটবলের বাইরেও ক্রীড়া বিশ্বের বড় আকর্ষণ এশিয়ান গেমস। ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানের নাগোয়াতে বসবে এশিয়ার সবচেয়ে বড় এই মাল্টি-স্পোর্টস ইভেন্ট। অ্যাথলেটিকস, সাঁতার, আর্চারি থেকে শুরু করে শুটিং সবখানেই এশিয়ার সেরা হওয়ার লড়াইয়ে নামবে চীন, জাপান, কোরিয়ার মতো পরাশক্তিরা। বাংলাদেশের জন্য এই আসরে পদক জয় করা বরাবরের মতোই চ্যালেঞ্জিং, তবে আর্চারি বা ক্রিকেটে পদকের প্রত্যাশা থাকবে পুরো জাতির।
এক নজরে ২০২৬-এর মেগা ইভেন্টগুলো
ইভেন্ট
তারিখ
স্বাগতিক দেশ
অ-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ
১৫ জানুয়ারি – ৬ ফেব্রুয়ারি
জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়া
পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
৭ ফেব্রুয়ারি – ৮ মার্চ
ভারত ও শ্রীলঙ্কা
ফুটবল বিশ্বকাপ
১১ জুন – ১৯ জুলাই
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো
নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
জুন – জুলাই
ইংল্যান্ড
এশিয়ান গেমস
১৯ সেপ্টেম্বর – ৪ অক্টোবর
জাপান
২০২৬ সালটি কেবল ট্রফি জয়ের বছর নয়, বরং এটি বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের পুনর্গঠনের বছর। ফুটবলে ৪৮ দলের নতুন পরীক্ষা সফল হলে ভবিষ্যতে খেলার চিত্র বদলে যাবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের জন্য এটি ‘মেক অর ব্রেক’ বছর। ঘরের মাঠে বা পরিচিত কন্ডিশনে ক্রিকেট বিশ্বকাপের সাফল্য দেশের ক্রিকেটের নাজুক অবস্থাকে টেনে তুলতে পারে। সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের প্রতিটি মাস ক্রীড়াপ্রেমীদের হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দেবে- এ কথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।

 

এম এইচ মামুন