২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই পৌঁছে দেওয়ার কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আবুল বাসার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন শেষে এ তথ্য জানান।
উপদেষ্টার দাবি, এবারের বইয়ের মান আগের তুলনায় ভালো এবং এটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বড় সাফল্য। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে মোট ৩০ কোটি বিনামূল্যের বই ছাপা হয়েছে। প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই সব বই হাতে পেয়েছেন।
তবে মাধ্যমিক স্তরে পাঠ্যবই বিতরণে এখনো ব্যাপক ঘাটতি রয়ে গেছে। গতকাল (৩১ ডিসেম্বর) পর্যন্ত মাধ্যমিক স্তরের বইয়ের ৭২.৭১ শতাংশই মাঠপর্যায়ে পৌঁছেছে, যদিও মোট ছাপা হয়েছে প্রায় ৮৮ শতাংশ। বিশেষ করে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই বিতরণে দেরি দেখা দিচ্ছে। সপ্তম শ্রেণির মোট বইয়ের সংখ্যা ৪ কোটি ১৫ লাখের বেশি এবং অষ্টম শ্রেণির ৪ কোটি ২ লাখের বেশি।
এনসিটিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য সব বই বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বই জানুয়ারির মধ্য পর্যন্ত পুরোপুরি পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে, তবে বাস্তবে এটি এপ্রিল পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে।
এবার শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন সরকারি কোনো বই উৎসব আয়োজন করা হয়নি। স্কুলে বই পৌঁছে দেওয়া হলেও শিক্ষার্থীদের হাতে তা অনানুষ্ঠানিকভাবে বিতরণ করা হয়েছে। এর আগে কয়েক বছর ধরে পাঠ্যবই উৎসবের নামে কোটি কোটি টাকা খরচ করা হতো।
পাঠ্যবই বিতরণে অনিয়ম ও দেরির পেছনে দায়িত্বশীলদের মধ্যে সিন্ডিকেটের কার্যক্রমও ভূমিকা রাখছে বলে সূত্র জানায়। এনসিটিবির সচিব অধ্যাপক মো. সাহতাব উদ্দিন বলেন, বছরের প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের হাতে অন্তত কয়েকটি বই তুলে দেওয়া হয়েছে এবং প্রাথমিক, ইবতেদায়ি ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য শতভাগ বই পৌঁছেছে। তবে মাধ্যমিক স্তরের সম্পূর্ণ সেট বিতরণ আরও কিছুদিন সময় লাগবে।
মালিহা নামলাহ










