উত্তাল ডিআইইউ: নিরাপত্তা সংকট ও ফি বিতর্কে বছরজুড়ে ছাত্র আন্দোলন

বছরজুড়ে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ) ছিল আলোচনা, উদ্বেগ ও আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে। নিরাপত্তা সংকট, শিক্ষার্থীদের একাধিক মৃত্যু, বিতর্কিত ফি কাঠামো এবং ছাত্র রাজনীতির প্রভাব এই বিষয়গুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনাকে বারবার প্রশ্নের মুখে এনেছে। বছরজুড়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা ডিআইইউ ক্যাম্পাসে এক অস্থির পরিবেশ তৈরি করেছিল।

শিক্ষার্থী মৃত্যু ও নিরাপত্তা ইস্যু: ত্রিমুখী উদ্বেগ

২০২৫ সালে ডিআইইউ তিন শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত হয়। সড়ক দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা এবং রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাগুলো ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

সবচেয়ে বেশি আলোচনা সৃষ্টি করে ইলেক্ট্রনিক্স অ্যান্ড ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসানের মৃত্যু। এই ঘটনার পর ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদারসহ চার দফা দাবিতে ছাত্র সংগঠনগুলো প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে। প্রতিটি মর্মান্তিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানানো হলেও, বছর শেষেও সেই তদন্তের ফলাফল নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করে। বারবার শিক্ষার্থীর মৃত্যু প্রমাণ করে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা কাঠামোতে বড় ধরনের দুর্বলতা রয়েছে।

ফি ও একাডেমিক ইস্যুতে তীব্র আন্দোলন

শিক্ষার্থী মৃত্যুর পাশাপাশি বছরজুড়ে ডিআইইউতে শিক্ষার্থীদের তীব্র অসন্তোষের প্রধান কারণ ছিল অতিরিক্ত রিটেক ফি, বিলম্ব ফি এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা। একাধিক বিভাগে এই ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা সংঘবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে নামেন।

  • ইইই বিভাগে চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবি: ইইই বিভাগে একাডেমিক জটিলতা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ এতটাই চরমে পৌঁছায় যে শিক্ষার্থীরা বিভাগের চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের মতো কঠোর কর্মসূচি পালন করেন।

  • আংশিক স্বস্তি: আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কিছুটা নমনীয় হয়। তারা কিছু ক্ষেত্রে বিলম্ব ফি মওকুফ করাসহ একাডেমিক সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হন। তবে শিক্ষার্থীরা মনে করেন, স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় বছরজুড়ে তাদের এই আন্দোলন অব্যাহত ছিল।

প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও ক্যাম্পাস রাজনীতি

শিক্ষার্থী আন্দোলন, ফি বিতর্ক ও নিরাপত্তা ইস্যুতে ডিআইইউ প্রশাসনের ভূমিকা বারবার সামনে আসে। আন্দোলন দমাতে বা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন ও কিছু ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের সাময়িক স্বস্তি দিলেও, দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে ঘাটতি ছিল বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। একইসাথে, বছরজুড়ে ছাত্র রাজনীতি ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের তৎপরতা ক্যাম্পাসের সাংগঠনিক পরিবেশে প্রভাব ফেলে, যা সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকে ব্যাহত করে।

২০২৫ সালের ঘটনাপ্রবাহ এটাই স্পষ্ট করে যে, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রশাসনকে এখন শিক্ষার্থী নিরাপত্তা, একাডেমিক ফি কাঠামো ও সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনা এই তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় আরও সুচিন্তিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

-লামিয়া