সাত বছর কোমায় থাকার পর না ফেরার দেশে আকশু ফার্নান্দো

সাত বছর কোমায় থাকার পর শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন শ্রীলঙ্কার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সাবেক ক্রিকেটার আকশু ফার্নান্দো। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ৩৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

২০১৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর দক্ষিণ কলম্বোর মাউন্ট লাভিনিয়া সৈকতে অনুশীলন শেষে ফেরার পথে ট্রেন দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন ফার্নান্দো। অরক্ষিত রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় মারাত্মক আহত হওয়ার পর থেকেই তিনি ছিলেন কোমায়। দুর্ঘটনার পর থেকেই টানা সাত বছর লাইফ সাপোর্টে ছিলেন এই সাবেক ক্রিকেটার।

ফার্নান্দো ছিলেন শ্রীলঙ্কার ঘরোয়া ক্রিকেটের এক উজ্জ্বল সম্ভাবনা। রাগামা ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে খেলার সময়ই তার ক্যারিয়ার গতি পেতে শুরু করে। কিন্তু দুর্ঘটনাই সেই সম্ভাবনাময় যাত্রা থামিয়ে দেয়। দুর্ঘটনার কয়েক সপ্তাহ আগেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি।

তার ঘরোয়া ক্যারিয়ারে ৩৯টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ১,০৬৭ রান করেছেন ফার্নান্দো, যার মধ্যে সাতটি পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস ছিল। লিস্ট-এ ক্রিকেটে তার রান ২৫ ম্যাচে ২৯৮ এবং টি–টোয়েন্টিতে খেলেছেন ১৯ ম্যাচ।

নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ২০১০ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধিত্ব করেন আকশু ফার্নান্দো। ওই আসরের সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হারের ম্যাচে তিনি করেছিলেন দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫২ রান। ওই সময়ের সতীর্থদের মধ্যে ছিলেন দানুস্কা গুনাতিলকা ও ভানুকা রাজাপাকসে।

কলম্বোর সেন্ট পিটার্স কলেজ থেকে উঠে আসা ফার্নান্দো স্কুল ক্রিকেটেও ছিলেন ব্যতিক্রমী প্রতিভা। অনূর্ধ্ব-১৩, অনূর্ধ্ব-১৫ ও অনূর্ধ্ব-১৭ দলের অধিনায়কত্ব করেছেন তিনি।

রাগামা ক্রিকেট ক্লাবের প্রশাসক ও ধারাভাষ্যকার রোশান আবেসিংয়ে তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বলেন, “আকশু ছিল এক অসাধারণ তরুণ, যার প্রতিশ্রুতিময় ক্যারিয়ার এক নির্মম দুর্ঘটনায় আকস্মিকভাবে শেষ হয়ে যায়। স্কুল ক্রিকেট এবং রাগামার জন্য তার অবদান অবিস্মরণীয় থাকবে।”