শীতে পানিতে গোসলের অভ্যাস? অজান্তেই বাড়বে রোগের ঝুঁকি

কেউ কেউ অভ্যাসবশত সারা বছরই ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করেন। অনেকে কনকনে শীতেও দিব্যি ঠান্ডা পানিতে গোসল করেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, শীতের সময় ঠান্ডা পানি গায়ে ঢালা বেশ কষ্টসাধ্য বিষয়। তবে শীতের সময়ে ভুল পদ্ধতিতে ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করা তা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে হার্টের সমস্যা, শ্বাসকষ্ট এমনকী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও দেখা যায়। শীতে ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করতে চাইলে এই সময় যে ভুল এড়িয়ে চলা উচিৎ-
• দীর্ঘ সময় ঠান্ডা পানিতে গোসল:
শীতে ঠান্ডা পানিতে অনেকক্ষণ গোসল করলে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা দ্রুত কমে যায়। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয় এবং সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসনালির সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি ক্ষতিকর।
• হার্ট ও উচ্চ রক্তচাপ সমস্যা:
ঘুম থেকে উঠে বা দীর্ঘক্ষণ গরম ঘরে থাকার পর আচমকা মাথা বা শরীরে ঠান্ডা পানি ঢেলে দেওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এতে রক্তনালি হঠাৎ সংকুচিত হয়, রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের হার্টের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস আছে, তাঁদের জন্য এটি মারাত্মক হতে পারে।
• অসুস্থ অবস্থাতেও ঠান্ডা পানি ব্যবহার:
জ্বর, সর্দি-কাশি, গা-হাত-পা ব্যথা বা দুর্বল লাগলেও অনেকেই অভ্যাসের কারণে ঠান্ডা জলেই স্নান করেন। এতে অসুখ আরও বেড়ে যেতে পারে এবং সুস্থ হতে দেরি হয়।
• ত্বকের সমস্যা
আর্দ্রতার অভাবে ত্বক খসখসে,ত্বকের নিজস্ব জেল্লাও উবে যেতে পারে। ধীরে ধীরে নিস্তেজ ও ত্বকে অস্বস্তি হয়। চুলকানি, জ্বালা ভাব ও লাল হয়ে যাওয়ারও ঝুঁকি থাকে এছাড়া স্পর্শকাতর ত্বক হলে ঠান্ডায় হিমশীতল পানিতে গোসল করার অভ্যাসে হতে পারে অ্যাকজিমাও।

শীতে ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে মৌসুমি রোগের ঝুঁকি ২৯ শতাংশ কমে যায়। এ ছাড়া ঠান্ডায় শীতল পানিতে গোসল করার আরও অনেক উপকারিতা আছে। ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে শরীরে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে না। প্রদাহজনিত সমস্যাও দূর করে।

তবে আপনি যদি ফিট না হন ও হার্টের অসুখে ভুগেন তাহলে ঠান্ডা পানিতে গোসল এড়িয়ে যান। কারণ হার্টের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়লে অনিয়মিত হৃদস্পন্দন বা অ্যারিথমিয়া হতে পারে। এর থেকে বৃহত্তর কার্ডিয়াক অ্যাটাক ঘটতে পারে। এ কারণে শীতে অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম পানিতে গোসল করলে রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে বা কমে যেতে পারে, যা হার্টের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

বেশি ঠান্ডাও না আবার গরমও নয় এমন পানিতে গোসল করুন, প্রথমে হাত-পা ভেজান তারপর একে একে শরীরের বিভিন্ন স্থানে পানি ঢালুন ও এভাবে গোসল সম্পন্ন করুন। তবে হঠাৎ করে কখনো শরীরে পানি ঢালবেন না, এতে শরীরের ভেতরে শকের সৃষ্টি হতে পারে।

সানা