তিনু করিমের চিকিৎসা বেসরকারি হাসপাতালে করা হচ্ছে, যা ব্যয়বহুল। এই চিকিৎসার ফলে পরিবারের আর্থিক চাপ বেড়ে গেছে। অভিনেতার সহায়তায় ইতোমধ্যেই ছোট পর্দার অভিনয়শিল্পীদের সংগঠন ‘অ্যাক্টরস ইকুইটি’ এক লাখ টাকা এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় পাঁচ লাখ টাকার সহায়তা দিয়েছে।
তবে হুমায়রা নওশিন জানিয়েছেন, এখনো চিকিৎসার জন্য আরও অর্থের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও অ্যাক্টরস ইকুইটি থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়েছি। যে টাকা এখন পর্যন্ত বিল এসেছে, আরও অনেক টাকার প্রয়োজন।
অভিনেতা তিনু করিম ৮ নভেম্বর বরিশালের গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখানে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ায় ২৪ নভেম্বর ঢাকায় আনা হয়। ঢাকার একটি হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করা হলে তাঁর শারীরিক অবস্থা কিছুটা ভালো থাকায় কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু পরে রক্তচাপ ও সুগার লেভেল কমে যাওয়ায় জ্ঞান হারান। এরপর ৩ ডিসেম্বর বিকেলে পুনরায় লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।
অভিনেতা তিনু করিমের শারীরিক অবস্থার অবস্থা ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। ২৩ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর ২৬ ডিসেম্বর তাঁকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছিল। মঙ্গলবার থেকে তাকে কেবিনে স্থানান্তর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই খবর প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন অভিনেতার স্ত্রী হুমায়রা নওশিন। তিনি জানান, “আল্লাহর অশেষ রহমতে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। চার দিন আগে তার লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেলা হয়েছে। ডাক্তাররা আজ আইসিইউ থেকে কেবিনে দেওয়ার কথা বলেছেন। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।”
দুই যুগ ধরে অভিনয়ে সক্রিয় তিনু করিম। তিনি ২০০১ সালে ‘স্বাক্ষর’ নাটক দিয়ে টেলিভিশনে অভিষেক করেন। ২০১০ সালে ‘অপেক্ষা’ সিনেমা দিয়ে বড় পর্দায় নাম লেখান। এরপর ‘রাত জাগা ফুল’, ‘আলতা বানু’সহ অসংখ্য নাটক ও বিজ্ঞাপনে অভিনয় করেছেন। এছাড়া একটি মুঠোফোন অপারেটরের বিজ্ঞাপন দিয়েও তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
অভিনেতার পাশে পরিবারের পাশাপাশি শিল্পীসহ সাধারণ মানুষও দোয়া ও সহায়তা দিয়ে চলেছেন। চিকিৎসা চলাকালীন বিভিন্ন সংস্থা এবং ব্যক্তি আর্থিক ও মানসিক সমর্থন দিয়ে আসছেন। শারীরিক অবস্থার ধীরে ধীরে উন্নতি হওয়ায় আশা করা হচ্ছে, তিনু করিম শীঘ্রই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে আবার পর্দায় ফিরে আসবেন। অভিনেতার দীর্ঘ কর্মজীবন ও অভিনয় প্রতিভা তাকে ছোট ও বড় পর্দার দর্শকের কাছে বিশেষ স্থান দিয়েছে।
বিথী রানী মণ্ডল/










