শুটিং থেকে বাদ, ওজন নিয়ে চাপ—রাধিকা আপটের

অভিনয়জীবনের শুরুতে রাধিকা আপটের জন্য এক বিশেষ অভিজ্ঞতা ছিল একধরনের ধাক্কা। ছোটপর্দা ও বড় পর্দার অভিনয় শুরু হওয়ার সময় তিনি একটি বড় সংস্থার ছবিতে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে শুটিং শুরুর আগেই তিনি ছবিটি থেকে বাদ পড়েন। রাধিকা নিজেই জানালেন, এর পেছনে মূল কারণ ছিল ওজন বৃদ্ধি।

তিনি বলেন, “শুটিং শুরুর আগে আমি একটি ভ্রমণে যাচ্ছিলাম। তখনই জানিয়েছিলাম যে ডায়েট করব না। তবে ফিরে এসে প্রায় চার কেজি ওজন বেড়ে গিয়েছিল। শুটিংয়ের জন্য করা ফটোশুটে আমি মোটা দেখালাম, আর ছবিটি থেকে সঙ্গে সঙ্গে বাদ দেওয়া হয়।”

শুরুর এই ধাক্কা রাধিকার মানসিক অবস্থার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। তিনি জানালেন, “ওজন বেড়ে গেলে ভয় লাগত। মনে হত সঙ্গে সঙ্গে আমাকে ওজন কমাতে হবে। চাপটা ছিল অনেক।” এই পরিস্থিতিতে তিনি প্রথমবার ভাবতে বাধ্য হন যে শারীরিক গড়নের কারণে ক্যারিয়ারে বাধা আসতে পারে। তবে তিনি হাল ছাড়েননি। পরবর্তীতে মনোবিদের সাহায্য নিয়ে মানসিক দৃঢ়তা অর্জন করেন এবং এই চাপ মোকাবিলা করতে শিখেছেন।

রাধিকার অভিজ্ঞতা শুধু তাঁর জন্যই শিক্ষণীয় ছিল না, বরং অনেক নতুন অভিনেত্রীকেও সচেতন করেছে। তিনি বলেন, “শুরুর সেই ধাক্কা আমাকে আরও শক্তিশালী করেছে। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ ও ধৈর্য শেখার সুযোগ দিয়েছে।”

সন্তান আরাধ্যার জন্মের পরও ওজন বেড়েছিল, কিন্তু তখন আর কোনও ধরনের কাজের সুযোগ হারানো বা সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়নি। রাধিকা নিজেকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে শিখেছিলেন এবং শুটিংয়ে পরিবর্তিত চেহারা নিয়ে স্বচ্ছন্দে ফিরেছিলেন। এখন তিনি মনে করেন, সেই প্রথম ধাক্কা তাঁর জন্য উপকারী ছিল। এটি তাঁকে শারীরিক এবং মানসিকভাবে সহিষ্ণু হতে সাহায্য করেছে।

রাধিকা আপটের গল্প শুধুই ওজন বা ছবি থেকে বাদ পড়ার ঘটনা নয়, এটি একজন শিল্পীর ধৈর্য, মনোবল এবং আত্ম-স্বীকৃতির উদাহরণ। শুরুর সেই বাধা তাঁকে তৈরি করেছে আরও সাবলীল, দৃঢ় এবং আত্মবিশ্বাসী অভিনেত্রী হিসেবে।

বিথী/