বিপিএলে ব্যর্থতার বৃত্তে খালেদ মাহমুদ সুজন

বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছেন খালেদ মাহমুদ সুজন। এক সময় জাতীয় দলের হয়ে মাঠ মাতানো এই অলরাউন্ডার খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করলেও ক্রিকেটের সঙ্গ ছাড়েননি। বাইশ গজ থেকে বিদায় নেওয়ার পর কোচিং পেশায় যুক্ত হয়ে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের দক্ষতার প্রমাণ রেখেছেন তিনি।

কোচ হিসেবে ঘরোয়া লিগে সুজনের সাফল্য চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন দলকে শিরোপা জেতানো, প্রতিভাবান তরুণ ক্রিকেটার গড়ে তোলা—সব ক্ষেত্রেই তার অবদান প্রশংসিত। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটের এই সাফল্য বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) গিয়ে আর প্রতিফলিত হয়নি।

ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের চাপ, সীমিত সময়ের প্রস্তুতি ও দল গঠনের জটিলতায় বিপিএলে বারবারই ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছেন সুজন। একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে কাজ করলেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এনে দিতে না পারায় তার বিপিএল যাত্রা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বিপিএলে হেড কোচ হিসেবে সুজন একবার শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছিলেন। তবে ২০১৬ সালের সেই শিরোপার পর আর কখনো চ্যাম্পিয়ন হতে পারেননি। বরং পরবর্তী সময়গুলোতে তার কোচিং ক্যারিয়ারে যুক্ত হয়েছে টানা হারের বিব্রতকর অধ্যায়।

২০২৪ আসরে সুজনের কোচিংয়ে খেলেছিল দুর্দান্ত ঢাকা। জয় দিয়ে আসর শুরু করলেও এরপর টানা ১১ ম্যাচে হারে দলটি। পরের আসরে ঢাকা ক্যাপিটালসের প্রধান কোচের দায়িত্ব নিলেও শুরুতেই আসে ধাক্কা—প্রথম ৬ ম্যাচেই পরাজয়।

সবমিলিয়ে বিপিএলে এক সময় টানা ১৭ ম্যাচ জয়হীন ছিলেন কোচ সুজন, যা বিপিএলের ইতিহাসে কোনো কোচের জন্য সবচেয়ে দীর্ঘ হারের রেকর্ড। সেই বৃত্ত ভেঙে গত আসরে ঢাকা তিনটি ম্যাচ জিতলেও দলীয় ব্যর্থতার কারণে নতুন মৌসুমে তার সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেনি ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।

ফলে চলতি মৌসুমে নতুন করে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের দায়িত্ব নেন খালেদ মাহমুদ সুজন। তবে দল বদলালেও ফলাফলে তেমন পরিবর্তন আসেনি। তার কোচিংয়ে নোয়াখালী এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচ খেলে তিনটিতেই হেরেছে। এতে দলের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে কোচ সুজনের ভূমিকাও।

পরিসংখ্যান বলছে, সর্বশেষ তিন আসরে—দুর্দান্ত ঢাকা, ঢাকা ক্যাপিটালস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেস—এই তিন দলের হয়ে কোচিং করিয়ে ২৬ ম্যাচে মাত্র ৩টি জয়, বিপরীতে ২৩টি হার দেখেছে সুজনের দলগুলো।

ঘরোয়া ক্রিকেটে সফল এই কোচ বিপিএলে কবে ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে ফিরতে পারবেন—সেই প্রশ্নই এখন ক্রিকেট অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে।

এমইউএম/