প্রায় অর্ধশতাব্দী পর আবারও চাঁদের মাটিতে পা রাখতে যাচ্ছে মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসন্ন মেয়াদেই এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণটি আসতে চলেছে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার (NASA) প্রধান বিল নেলসন।
সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে নাসা প্রধান জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের মহাকাশ নীতি এবং বিশেষ করে ‘আর্টেমিস’ (Artemis) মিশনকে ঘিরে যে তৎপরতা শুরু হয়েছে, তাতে ২০২৮ সালের আগেই চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে নভোচারী পাঠানো সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কেবল মহাকাশে তার শ্রেষ্ঠত্বই প্রমাণ করবে না, বরং মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার পথও প্রশস্ত করবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে ‘আর্টেমিস’ মিশনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। নাসা প্রধানের মতে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এই মিশনে বিপুল অর্থায়ন এবং বেসরকারি খাতের (যেমন- স্পেসএক্স) অংশগ্রহণ আরও বাড়বে। নেলসন বলেন, “আমরা কেবল চাঁদে পা রাখতেই যাচ্ছি না, সেখানে দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতির পরিকল্পনা করছি। ট্রাম্প প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন গতি সঞ্চার করবে।”
এবারের চন্দ্রাভিযানে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের তৈরি ‘স্টারশিপ’ (Starship) রকেটটি মূল ভূমিকা পালন করবে। ট্রাম্প ও মাস্কের সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠতা এবং মহাকাশ গবেষণায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর প্রতিশ্রুতি এই মিশনকে আরও সহজ করে তুলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কেন এই চন্দ্রাভিযান?
বিজ্ঞানীদের মতে, চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে বরফ আকারে পানির অস্তিত্ব থাকতে পারে। যদি সেখান থেকে পানি ও জ্বালানি সংগ্রহ করা যায়, তবে ভবিষ্যতে চাঁদকে একটি ‘রিফুয়েলিং স্টেশন’ হিসেবে ব্যবহার করে মানুষ সরাসরি মঙ্গল গ্রহে পাড়ি দিতে পারবে।
চীন-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিযোগিতাঃ মহাকাশ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই দ্রুত চন্দ্রাভিযানের পেছনে চীনের সাথে চলমান প্রতিযোগিতাও একটি বড় কারণ। চীন ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন চাইছে বেইজিংয়ের আগেই ওয়াশিংটন যেন চাঁদে নিজেদের শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করতে পারে।
নাসা প্রধানের এই ঘোষণা মহাকাশ প্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের মহাকাশ নীতির মাধ্যমে ২০২৫ সাল থেকেই আর্টেমিস মিশনের পরবর্তী ধাপগুলো আরও জোরালো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
-এম. এইচ. মামুন










