২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির বইয়ে যুক্ত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস

আগামী ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস স্থান পাচ্ছে বিশেষ গুরুত্বসহ। ষষ্ঠ থেকে নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে এই গণআন্দোলনের কারণ, ফলাফল এবং তাৎপর্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়েছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ২০২৪ সালের আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পাঠ্যবইয়ে ব্যাপক পরিবর্তনের অংশ হিসেবে।

প্রতিটি শ্রেণিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কিত বিষয়বস্তু বিভিন্ন গভীরতায় স্থাপন করা হয়েছে। সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রথম অধ্যায়ে ‘বাংলাদেশে গণআন্দোলন ও চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ শিরোনামে নতুন পাঠ যুক্ত হয়েছে, যেখানে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের সাথে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের তুলনা করা হয়েছে।

অষ্টম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের তৃতীয় অধ্যায়ে ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ শিরোনামে নতুন অধ্যায় যুক্ত করা হয়েছে। এই অধ্যায়ের পাঠ-১২তে ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় গণঅভ্যূত্থান’ শিরোনামে জুলাই গণঅভ্যূত্থানের ইতিহাস বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পাঠ্যবইয়ে দ্বিতীয় অধ্যায়ে ‘স্বাধীন বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক একটি টপিক যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ে সমন্বিত আলোচনা রয়েছে। একইভাবে নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা’ পাঠ্যবইয়ের ত্রয়োদশ অধ্যায়ে ‘বাংলাদেশে গণআন্দোলন’ শিরোনামে একটি সম্পূর্ণ টপিক সংযোজন করা হয়েছে।

পাঠ্যবইয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শুরু হয়েছিল সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবি থেকে। ৫ জুন ২০২৪ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ সারাদেশে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করে। শিক্ষার্থী ও জনগণের আন্দোলনকে দমন করতে তৎকালীন সরকার সহিংস পথ বেছে নেয়। এই প্রক্রিয়ায় অহিংস আন্দোলন দমিত হলে তা রূপান্তরিত হয় সরকারের পতনের দাবিতে। বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পাঠ্যবইয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান হওয়ার ১১টি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বৈষম্য, দুর্নীতি, বাকস্বাধীনতার হ্রাস এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতার মতো বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।

অষ্টম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়েও পরিবর্তন এনেছে এনসিটিবি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ শাহরিয়ার খান আনাসের আবেগপূর্ণ চিঠি ‘সাহিত্য কণিকা’ বইয়ের পেছনের প্রচ্ছদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আনাস ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার চানখাঁরপুল এলাকায় আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন। তার মায়ের মতে, এই চিঠি অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং জুলাইয়ে শহীদ ও আহত সবার কণ্ঠস্বর শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে যায়।

নতুন পাঠ্যবইয়ে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের একটি ধারাবাহিক রূপ উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে শেখ হাসিনার পতন এবং স্বৈরশাসনের অবসানের বিষয়ও সংযুক্ত করা হয়েছে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী জানান, জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগ ও ভূমিকা তুলে ধরতেই এই অন্তর্ভুক্তি করা হয়েছে। শিক্ষা উপদেষ্টার নির্দেশনায় নেওয়া এ উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের বাস্তব প্রেক্ষাপট জানতে পারবে এবং ইতিহাসমনস্ক সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।