জকসু নির্বাচন স্থগিতের খবরে জবি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন-২০২৫ স্থগিতের প্রাথমিক সিদ্ধান্তকে ঘিরে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন শিক্ষার্থীরা। বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকের কারণ দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে জরুরি সিন্ডিকেট বৈঠকে বিষয়টি আলোচনায় এলে ক্যাম্পাসজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
আজ সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরুর কথা থাকায় শিক্ষার্থীরা ভোর থেকেই দলে দলে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। প্রস্তুত ছিল ৩৯টি কেন্দ্রে ১৭৮টি বুথ, যেখানে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ ও গণনার পরিকল্পনা ছিল। ঠিক এই সময় খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের খবরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডাকে এবং সেখানে নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্তের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন, ফলে প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে পারেনি।
সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করে উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘শোকাবহ এই সময়ে আমরা নির্বাচনের উৎসব চাই না। এ কারণেই জকসু ও হল সংসদ নির্বাচন স্থগিত করা হচ্ছে।’ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দুই দশক পর এই প্রথম ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছিল কর্তৃপক্ষ, কিন্তু ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই তা থেমে গেল। নতুন সময়সূচি পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
জগন্নাথ কলেজ থাকাকালীন সর্বশেষ ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৭ সালে। ২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পর এটি ছিল প্রথম জকসু নির্বাচন। কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ৩৮টি ও হল সংসদের জন্য ১টি কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছিল; প্রতি ১০০ শিক্ষার্থীর জন্য একটি করে বুথ রাখার পরিকল্পনা ছিল।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, জকসু নির্বাচনে মোট ভোটার ১৬ হাজার ৪৪৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৮ হাজার ৪৭৯ ও পুরুষ ভোটার ৮ হাজার ১৭০ জন। কেন্দ্রীয় ও হল সংসদ মিলিয়ে প্রার্থী ছিলেন ১৮৭ জন। চারটি প্যানেল—ছাত্রদল, শিবির, ছাত্রশক্তি ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছিল। সহসভাপতি (ভিপি) পদে ৯ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৯ জন এবং সহসাধারণ সম্পাদক পদে ৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঠে ছিলেন।