নির্বাচন করবেন না মাহফুজ আলম, রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করলেন সাবেক উপদেষ্টা

মাহফুজ আলম ।ছবি:সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন। লক্ষ্মীপুর-১ আসন থেকে তার নামে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো ইচ্ছা তার নেই।

নির্বাচন না করার কারণ মাহফুজ আলম জানান, তিনি শুরু থেকেই নির্বাচন না করার বিষয়ে অনড় ছিলেন। তিনি বলেন, “আমি তো শুরু থেকেই বলে আসছি যে নির্বাচন করব না। এই কারণেই আমি সরকার থেকে নিজের ইচ্ছায় সরে যেতে চাইনি। তবে সরকার মনে করেছে, ছাত্র প্রতিনিধিরা থাকলে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, তাই আমি সরে গেছি। কিন্তু নির্বাচন না করার সিদ্ধান্তটি আমার আগে থেকেই নেওয়া ছিল।”

ভাই মাহবুব আলমের প্রার্থীতা প্রসঙ্গে একই আসন (লক্ষ্মীপুর-১) থেকে তার ভাই এবং নবগঠিত রাজনৈতিক দল এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এ বিষয়ে মাহফুজ আলম মন্তব্য করেন যে, মাহবুব আলম এনসিপির একজন নেতা এবং তিনি সম্পূর্ণ নিজের সিদ্ধান্তে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এতে তার (মাহফুজ আলম) কোনো ভূমিকা বা বক্তব্য নেই।

দলীয় সম্পৃক্ততা ও ভবিষ্যৎ ভাবনা এর আগে সোমবার সকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক দীর্ঘ পোস্টে মাহফুজ আলম জানান, তিনি নাগরিক কমিটি ও এনসিপি গঠনের প্রক্রিয়ায় শুরু থেকে সম্পৃক্ত থাকলেও বর্তমানে তিনি এনসিপির অংশ হচ্ছেন না।

ফেসবুকে মাহফুজ আলম লিখেছেন, ‘নাগরিক কমিটি ও এনসিপি জুলাইয়ের সম্মুখসারির নেতৃত্বে সংগঠিত হয়েছিল। এ দুটি সংগঠনে আমার জুলাই সহযোদ্ধারা থাকায় গত দেড় বছর আমি চাহিবামাত্র তাদের পরামর্শ, নির্দেশনা ও পলিসিগত (নীতিগত) জায়গায় সহযোগিতা করেছি।’

বিদ্যমান বাস্তবতায় এই সম্পর্ক আর থাকছে না জানিয়ে মাহফুজ আলম বলেন, ‘আমার জুলাই সহযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান, স্নেহ ও বন্ধুত্ব মুছে যাবে না। কিন্তু আমি এ এনসিপির অংশ হচ্ছি না। আমাকে জামায়াত-এনসিপি জোট থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়নি, এটা সত্য নয়। কিন্তু ঢাকার কোনো একটা আসনে জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থী হওয়ার চাইতে আমার লং স্ট্যান্ডিং পজিশন (দীর্ঘদিনের অবস্থান) ধরে রাখা অধিক গুরুত্বপূর্ণ।’

নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে মাহফুজ আলম বলেছেন, ‘নূতন রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বন্দোবস্ত, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক লড়াই, সামাজিক ফ্যাসিবাদ মোকাবিলা, রিকনসিলিয়েশন, দায়-দরদের সমাজসহ অনেক কথাই আমি বলেছি, যেগুলো আমার জুলাই সহযোদ্ধারা উক্ত দুটি সংগঠন থেকে বারবার বলেছেন। কিন্তু তারা এগুলো ধারণ করতেন? এনসিপিকে একটা বিগ জুলাই আম্ব্রেলা আকারে স্বতন্ত্র উপায়ে দাঁড় করানোর জন্য আমি সকল চেষ্টাই করেছি। কিন্তু অনেক কারণেই সেটা সম্ভব হয়নি।’

নিজের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “ইতিহাসের এই পর্বে বাংলাদেশ একটি শীতল যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সময়ে কোনো সুনির্দিষ্ট পক্ষ না নিয়ে নিজেদের নীতি ও বক্তব্যে অটল থাকাই শ্রেয় বলে আমি মনে করি।”

আফরিনা সুলতানা/