বছর শেষে শোকাতুর টলিউড। অভিনেত্রী শ্রাবণী বণিকের অকালপ্রয়াণ বাংলা বিনোদন জগতে এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি করেছে। গত সোমবার সকালে রাজারহাটের একটি ক্যানসার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাত্র ৫২ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি মারণরোগ ফুসফুসের ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। তাঁর এই চলে যাওয়া যেন এক লড়াকু অধ্যায়ের অবসান।
শ্রাবণী বণিক ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। ছোটপর্দা, বড়পর্দা কিংবা নাটকের মঞ্চ—সবখানেই ছিল তাঁর স্বচ্ছন্দ যাতায়াত। জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘লালকুঠি’, ‘রাঙা বউ’, ‘গোধূলি আলাপ’, এবং ‘সোহাগ চাঁদ’-এ তাঁর অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। অভিনয়ের সূক্ষ্মতা ও চরিত্রের প্রতি সততা তাঁকে দর্শকের অত্যন্ত কাছের মানুষ করে তুলেছিল। শুধু ছোটপর্দায় নয়, কিংবদন্তি পরিচালক তরুণ মজুমদারের ‘আলো’ এবং ‘চাঁদের বাড়ি’-র মতো ধ্রুপদী চলচ্চিত্রেও তিনি তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলেন।
তাঁর চিকিৎসার দিনগুলো ছিল অত্যন্ত সংঘাতময়। ক্যানসারের ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হয়েছিল পরিবারকে। শ্রাবণীর ছেলে অচ্যুত আদর্শ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মায়ের চিকিৎসার জন্য ১২ লক্ষ টাকার সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিলেন। সেই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, এই কঠিন রোগ কীভাবে তাঁদের পরিবারকে ভেতর থেকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তবে মায়ের অদম্য জেদ আর সাহসের কথাও বারবার মনে করিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শ্রাবণী এবং তাঁর পরিবার আশা হারাননি, কিন্তু নিয়তি ছিল ভিন্ন।
অত্যন্ত প্রচারবিমুখ এই অভিনেত্রী নিজের অসুস্থতাকে আড়ালে রাখতে চেয়েছিলেন। কয়েক মাস আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে কাজে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। শ্রাবণীর মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই টলিপাড়ার সহকর্মী এবং ভক্তদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। পর্দার ওপারেই হোক কিংবা শুটিং সেটের আড্ডায়—শ্রাবণীর প্রাণবন্ত উপস্থিতি সবাই মিস করবেন।
শ্রাবণী বণিক কেবল একজন অভিনেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন যোদ্ধা। তাঁর কাজ, বিশেষ করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের চরিত্রগুলোকে পর্দায় জীবন্ত করে তোলার ক্ষমতা তাঁকে দীর্ঘকাল স্মরণীয় করে রাখবে। টলিউডের ইতিহাসে তাঁর অবদান এবং তাঁর জীবনযুদ্ধের গল্প অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে অনেকের কাছে।
বিথী রানী মণ্ডল/










