অ্যানিমেশনের রাজত্ব, দর্শক মুগ্ধ

২০২৫ সাল হলিউডের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় বছর হয়ে থাকবে, তবে তা কোনো রক্ত-মাংসের সুপারস্টারের সাফল্যের জন্য নয়, বরং অ্যানিমেশনের অভাবনীয় দাপটের জন্য। বছরের শুরু থেকেই দেখা গেছে, বাস্তব অভিনেতাদের উপস্থিতির চেয়ে অ্যানিমেটেড চরিত্ররাই দর্শকদের হলমুখী করতে বেশি সফল হয়েছে। বড় বড় স্টুডিওগুলোর হিসাব-নিকাশ উল্টে দিয়ে এ বছর রাজত্ব করেছে কাল্পনিক জগৎ।

২০২৫ সালে হলিউড আরও একবার প্রমাণ করেছে যে, কেবল বড় তারকার নাম দিয়ে এখন আর ছবি চালানো সম্ভব নয়। তারকাদের ‘স্টারডাম’ এখন অনেকটাই ম্লান। টম ক্রুজের মতো মেগাস্টারের ‘মিশন : ইম্পসিবল– দ্য ফাইনাল রেকনিং’ আমেরিকার বাজারে ২০০ মিলিয়নের গণ্ডিও পেরোতে পারেনি, যা এই ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য বড় হতাশার কারণ। ব্র্যাড পিটের ‘এফ ওয়ান’, জেনিফার লরেন্সের ‘ডাই মাই লাভ’ কিংবা ডোয়াইন জনসনের ‘দ্য স্ম্যাশিং মেশিন’—বড় বাজেটের প্রতিটি ছবিই বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছে। এমনকি গ্লেন পাওয়েল বা জুলিয়া রবার্টসের মতো সময়ের জনপ্রিয় তারকারাও দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

এ বছর বক্স অফিসের সব ছক ওলটপালট করে দিয়েছে চীনা অ্যানিমেটেড ফ্যান্টাসি সিনেমা ‘নে ঝা-২’। মাত্র ৮০ মিলিয়ন ডলার বাজেটে নির্মিত এই ছবিটি বিশ্বজুড়ে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করে বছরের সর্বোচ্চ ব্যবসাসফল সিনেমার মর্যাদা পেয়েছে। অ্যানিমেশনের এই জোয়ারে ডিজনির অবদানও ছিল চোখে পড়ার মতো। তাদের বহুল প্রতীক্ষিত ‘জুটোপিয়া ২’ ১ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, আর তৃতীয় অবস্থানে জায়গা করে নিয়েছে ডিজনিরই লাইভ-অ্যাকশন অ্যানিমেশন ‘লিলো অ্যান্ড স্টিচ’। পাশাপাশি জাপানি অ্যানিমেশন ‘ডেমন স্লেয়ার: ইনফিনিটি ক্যাসল’ মুক্তি পাওয়ার পর বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মধ্যে যে উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে, তা রীতিমতো নজিরবিহীন।

তবে বছরের সবচেয়ে বড় চমক ছিল মার্ভেল বনাম ডিসি লড়াই। দীর্ঘদিনের একচ্ছত্র আধিপত্য হারিয়ে মার্ভেল এ বছর ডিসির কাছে স্পষ্ট ব্যবধানে ধরাশায়ী হয়েছে। মার্ভেলের ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা : ব্রেভ নিউ ওয়ার্ল্ড’ বা ‘ফ্যান্টাস্টিক ফোর’-এর মতো হেভিওয়েট প্রজেক্টগুলো জেমস গান পরিচালিত ডিসির ‘সুপারম্যান’-এর ঝড়ের কাছে নতি স্বীকার করেছে। এমসিইউর যাত্রা শুরুর পর এই প্রথম ডিসি স্পষ্টভাবে মার্ভেলকে পেছনে ফেলে বছরের সেরা সুপারহিরো সিনেমার খেতাব অর্জন করেছে।

বিথী রানী মণ্ডল/