শীতে গাঁদা গাছের যত্ন, সঠিক সময়ে ফুল এবং ফুলের উপকারিতা

শীতের বাগান আলো করে থাকে গাঁদা ফুল। এই ফুলের জন্য গাছের চারা তৈরি বা বসানোর কাজ মাসখানেক আগে থেকেই শুরু হয়ে যায়। এমনিতে সারা বছরই গাঁদাফুল হয়। তবে শীত আসার আগেই অনেক বাড়ির বারান্দায়, ছাদে বসানো হয়ে যায় এই গাছটি। তবে সঠিক সময়ে যদি ফুল ফোটাতে চান, তা হলে কয়েকটি বিষয় জেনে রাখা জরুরি।

মাটি: গাঁদা গাছ বসানোর সময় মাটি প্রস্তুত করতে হয়। মাটির সঙ্গে মেশাতে হয় ভার্মি কম্পোস্ট। জল যাতে না জমে, সে জন্য মিশিয়ে নিতে হয় কিছুটা বালি। সে সব ঠিকঠাক না হলে কিন্তু ফুল ভালো হবে না।

পানি: গাঁদা গাছে খুব বেশি পানি লাগে না। অতিরিক্ত পানি দিলে ফুল যেমন কমতে পারে তেমনই মাটিতে পানি জমলে, গাছের গোড়া পচে যেতে পারে। এক দিন অন্তর গাছে পানি দিন। মাটির উপরিভাগ শুকিয়ে গেলে তবেই পানি দেওয়া ভালো।

রোদ: গাঁদা গাছটি যেখানে রেখেছেন সেখানে ঠিকঠাক রোদ পড়ে তো? এই গাছের জন্য রোদ খুব জরুরি। দিনে ছ’ঘণ্টা রোদ পেলে তবেই ফুল ভালো হবে। ছায়ায় গাছ রাখা যাবে না।

সার: অধিক সারে গাছ, ফলন দুই-ই নষ্ট হতে পারে। গাঁদা গাছ যদি ভার্মিকম্পোস্ট যুক্ত মাটিতে বসানো হয়, তা হলে এক মাস সার লাগবে না। তার পর এক মাস অন্তর অল্প করে জৈব সার দিতে পারেন। খোল, আনাজের খোলা পচিয়ে সার তৈরি করেও দিতে পারেন।

পোকার আক্রমণ: গাঁদা গাছে পোকার আক্রমণ হলে পানির সঙ্গে নিম তেল এবং তরল সাবান মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। এই গাছে প্রায়শই মিলিবাগের আক্রমণ হয়। সে ব্যাপারেও সতর্ক থাকা দরকার। তবে রাসায়নিক কীটনাশক স্প্রে করতে যাবেন না।

গাঁদা ফুলের উপকারিতা গাঁদা একটি অতিপরিচিত একটি উদ্ভিদ। গাঁদা ফুলের বিভিন্ন জাত ও রং থাকলেও উজ্জ্বল হলুদ ও গাঢ় কমলা রং বেশি লক্ষ্য করা যায়। গাঁদা ফুল বাগানের শোভা বর্ধন ছাড়াও বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠান, পূজা-পার্বণ ও গৃ্হসজ্জায় এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে । সেই সাথে ফুলটির বেশ কিছু উপকারিতা ও ঔষধি গুণ ও রয়েছে।

গাঁদা ফুলের উপকারিতা :

  • গাঁদা ফুলের অপরূপ সুগন্ধের জন্য এটি থেকে বিভিন্ন ধরনের সুগন্ধি তৈরি হয়।
  • গাঁদা ফুলের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্বিতে ভূমিকা রাখে এবং শরীরকে টিউমার হতে রক্ষা করে।
  • শরীরের কোথাও কেটে গেলে গাঁদার পাতা পিষে লাগালে রক্ত পড়া ও ক্ষত ভালো হয়।
  • গাঁদা ফুলের চা নিয়মিত পান করলে মুখের ব্রণ দূর হয়, ত্বক মসৃণ হয়, হজম শক্তি বাড়ায়, হাড়ের ক্ষয় রোধ হয়, আর্থাইটিসের সমস্যা ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর হয়।
  • গাঁদা ফুল বেটে নারিকেল তেলের সাথে মিশিয়ে মাথায় ১০/১৫ দিন লাগালে মাথার খুশকি দূর হয়, চুল কালো হয়।
  • গাঁদা ফুল শুকিয়ে পুড়ে ছাই দিয়ে নিয়মিত দাঁত মাজলে দাঁতের গোড়া শক্ত হয়, মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়, মুখের ঘা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

সাবিনা নাঈম