মিষ্টি কুমড়া শুধু সুস্বাদু নয়, এটি স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত উপকারী। বিশেষ করে ভিটামিন, খনিজ ও ফাইবারে সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি দৈনন্দিন খাদ্যে রাখলে নানা রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।
মিষ্টি কুমড়া ভিটামিন এ এবং সি-এর সমৃদ্ধ উৎস। ভিটামিন এ চোখের দৃষ্টি ভালো রাখে এবং রাতকানা প্রতিরোধে সহায়ক। ভিটামিন সি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। এছাড়া এতে থাকা পটাশিয়াম হার্ট সুস্থ রাখতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ফাইবার হজমে সাহায্য করে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমায় এবং অন্ত্রে ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখে।
মিষ্টি কুমড়া ওজন নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর। এতে ক্যালোরি কম এবং ফাইবার বেশি থাকে, যা দীর্ঘক্ষণ তৃপ্তি দেয়। তাই যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের জন্য কুমড়া দারুণ খাবার। এছাড়া এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বক মসৃণ রাখতে সাহায্য করে, চুলকে শক্তিশালী রাখে এবং বার্ধক্যজনিত ক্ষয় দেরি করে।
রান্নায় মিষ্টি কুমড়া ব্যবহার করা যায় নানা ভাবে। এটি ভাপে সেদ্ধ, ভাজি, সুপ, কুমড়া বড়ি, কেক বা পায়েসে ব্যবহার করা যায়। শীতকালে সেদ্ধ বা ভাজা কুমড়া খাওয়া শরীর গরম রাখতে সাহায্য করে। কুমড়া সহজে চাষযোগ্য এবং অধিকাংশ মাটি ও জলবায়ুতে ভালো জন্মায়। বাংলাদেশে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জ ও দিনাজপুরসহ বিভিন্ন জেলায় এর চাষ হয়ে থাকে।
সার্বিকভাবে, মিষ্টি কুমড়া সুস্বাদু, পুষ্টিকর এবং সহজলভ্য একটি সবজি। এটি শুধু স্বাস্থ্যকর নয়, বরং শিশু, তরুণ ও বৃদ্ধ—সবার খাদ্য তালিকায় রাখা উচিৎ। নিয়মিত কুমড়া খেলে চোখ, হৃদয়, চামড়া, হজম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সবই উপকার হয়। তাই মিষ্টি কুমড়া আমাদের খাদ্যাভ্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া উচিত।
-বিথী রানী মণ্ডল









