মার্ভেলের নতুন টিজারে এক্স-মেন, ফ্যানদের উত্তেজনায় সোশ্যাল মিডিয়া কাঁপছে

মার্ভেল ভক্তদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। প্রথমবারের মতো মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সে সরাসরি দেখা মিলল এক্স-মেন চরিত্রগুলোর। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘অ্যাভেঞ্জার্স : ডুমসডে’-এর নতুন টিজারে মিউট্যান্টদের ঝলক দেখার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে এক উন্মাদনা। এই টিজারটি কেবল একটি সিনেমার প্রচারণা নয়, বরং মার্ভেলের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পুরো টিজারে সবচেয়ে বড় চমক ছিল কিংবদন্তি অভিনেতা প্যাট্রিক স্টুয়ার্টের ভয়েস-ওভার। তাঁর গম্ভীর কণ্ঠে শোনা যায় এক অশুভ সতর্কবাণী—এই যুদ্ধে অস্তিত্বের লড়াইয়ে কার জয় হবে আর কে চিরতরে হারিয়ে যাবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এছাড়া টিজারের সংক্ষিপ্ত অংশে ম্যাগনেটো ও প্রফেসর এক্সের সেই চিরচেনা আদর্শগত দ্বন্দ্বের আবহ আবারও ফুটে উঠেছে।

টিজারের প্রতিটি ফ্রেম সাজানো হয়েছে মার্ভেল ফ্যানদের নস্টালজিয়া আর উত্তেজনায় ভাসাতে। বিশেষ করে ম্যাগনেটো, প্রফেসর এক্স এবং সাইক্লোপসের উপস্থিতি দর্শকদের মনে বড় ধরনের ঝড়ের সৃষ্টি করেছে। টিজারে দেখা যায়, জেভিয়ার স্কুল ফর গিফটেড ইয়াংস্টার্স দাউ দাউ করে জ্বলছে, সাইক্লোপসের চোখ থেকে বেরিয়ে আসছে শক্তিশালী বিধ্বংসী রশ্মি আর বিশালকার সেন্টিনেলগুলো চালাচ্ছে ভয়ংকর ধ্বংসযজ্ঞ।

একসময় এক্স-মেন চরিত্রগুলোর স্বত্ব টোয়েন্টিথ সেঞ্চুরি ফক্সের হাতে থাকায় মার্ভেল ভক্তদের মনে একটি আক্ষেপ ছিল। ডিজনির ফক্স অধিগ্রহণের পর থেকেই সবাই অপেক্ষা করছিলেন—কবে অ্যাভেঞ্জার্স আর এক্স-মেন একই স্ক্রিনে আসবে। ভক্তদের মতে, ডুমসডে-এর এই টিজারটি ফক্সের আমলের যেকোনো এক্স-মেন সিনেমার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং প্রতিশ্রুতিময় মনে হচ্ছে।

টিজারটি অনলাইনে আসা মাত্রই কয়েক মিনিটের মধ্যে মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ ছাড়িয়ে যায়। প্রথমে নিম্ন মানের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লেও পরে হাই-রেজ্যুলেশন সংস্করণ আসতেই তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডিংয়ে শীর্ষে চলে আসে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভক্তদের মন্তব্যই বলে দিচ্ছে—‘অ্যাভেঞ্জার্স : ডুমসডে’ কেবল একটি সিনেমা নয়, এটি মার্ভেলের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের এক মহাকাব্যিক প্রয়াস হতে যাচ্ছে।

বিথী রানী মণ্ডল/