স্ট্যান্ডআপ কমেডি অনেকের কাছে কেবল বিনোদনের মাধ্যম মনে হলেও, বাস্তবে এটি কতটা লাভজনক হতে পারে তা কল্পনার বাইরে। কমেডিয়ানদের জনপ্রিয়তা কখনো কখনো এমন এক উচ্চতায় পৌঁছে দেয়, যেখানে তারা বিশ্বের শীর্ষ সিনেমা তারকাদেরও ছাড়িয়ে যেতে পারেন। এর অন্যতম উজ্জ্বল উদাহরণ হল জেরি সাইনফিল্ড। মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করার পরও তিনি আজ বিশ্বের সবচেয়ে ধনী কমেডিয়ান এবং কমেডির জগতে একমাত্র বিলিয়নিয়ার।
নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় সিটকম ‘সাইনফিল্ড’-এর নির্মাতা ও প্রধান অভিনেতা জেরি সাইনফিল্ডের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, এটি তাঁকে কেবল কমেডিয়ান নয়, বরং হলিউডের ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে স্থান দিয়েছে। এ অর্থের মূল উৎস হল ‘সাইনফিল্ড’ সিরিজের আয়, যা বছরের পর বছর ধরে পুনঃসম্প্রচারের মাধ্যমে ধারাবাহিক আয় এনে দিয়েছে।
ফোর্বস জানিয়েছে, জেরি সাইনফিল্ড এবং সহ-নির্মাতা ল্যারি ডেভিড সিরিজের সিন্ডিকেশন আয়ের প্রায় ১৫ শতাংশ পান। এতে স্থানীয় টিভি চ্যানেল ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে বিক্রি হওয়া রাইটস অন্তর্ভুক্ত। ধারাবাহিক পুনঃসম্প্রচার এবং আন্তর্জাতিক চ্যানেলে সম্প্রচারের মাধ্যমে এই সিরিজ জেরিকে কোটি কোটি ডলার আয় করেছে। শুধুমাত্র এই সিরিজ থেকে তিনি আনুমানিক ৭০০ মিলিয়ন ডলার উপার্জন করেছেন।
তাঁর আয়ের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলো স্ট্যান্ডআপ পারফর্মেন্স। জেরি নিয়মিত স্ট্যান্ডআপ করছেন এবং বিভিন্ন কমেডি শোতে অংশগ্রহণ করছেন। এর মধ্যে ‘কমেডিয়ানস ইন কারস গেটিং কফি’ এবং নেটফ্লিক্সের জন্য করা কমেডি স্পেশালগুলো উল্লেখযোগ্য। এই পারফর্মেন্সগুলো তাঁকে শুধু অর্থই দেয়নি, বরং আন্তর্জাতিক মানের কমেডিয়ান হিসেবে পরিচিতি এবং দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তাও এনে দিয়েছে।
সিনেমার ক্ষেত্রে জেরি সাইনফিল্ডের কাজ খুব সীমিত। তিনি কেবল দুটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন—‘বি মুভি’ এবং ‘আনফ্রোস্টেড’। এর মধ্যে ‘বি মুভি’ ব্যবসায়িকভাবে সফল হলেও, ‘আনফ্রোস্টেড’ বাণিজ্যিকভাবে ব্যর্থ হয়। তবুও, জেরির আয়ের মূল কেন্দ্রবিন্দু কখনো সিনেমা ছিল না, বরং টেলিভিশন ও স্ট্যান্ডআপ কমেডি।
অবশ্য, মাত্র কয়েকটি কাজের মধ্যেই জেরি সাইনফিল্ডের সম্পদ ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। এটি প্রমাণ করে যে, কেবল জনপ্রিয়তা এবং সৃজনশীলতার মাধ্যমে স্ট্যান্ডআপ কমেডিও হতে পারে এক অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা। জেরির চেয়ে শুধুমাত্র একজন ধনী অভিনেতা—টেইলার পেরি—তিনি সম্পদে এগিয়ে আছেন, যিনি মাঝেমধ্যে অভিনয় ও প্রযোজনায় যুক্ত থাকেন।
এভাবে জেরি সাইনফিল্ড শুধু একটি নাম নয়, বরং স্ট্যান্ডআপ কমেডির এক অনন্য প্রতীক। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, সঠিক প্রজেক্ট, ধারাবাহিকতা এবং সৃজনশীলতা মিলিয়ে একজন কমেডিয়ান সিনেমার বড় তারকাদের ছাড়িয়ে যেতে পারে। সাইনফিল্ডের সফলতা আজকের প্রজন্মের কমেডিয়ানদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে, যারা স্ট্যান্ডআপকে শুধুমাত্র বিনোদন নয়, বরং একটি সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ারের পথ হিসেবে দেখছেন।
বিথী রানী মণ্ডল/










