রোজকার খাবারই নিঃশব্দে ক্ষতি করে চলেছে মস্তিষ্ক!

মস্তিষ্ক দেহের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটি শরীরের অন্যান্য সব ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে। যার মধ্যে হৃৎস্পন্দন, ফুসফুসের শ্বাস প্রশ্বাস এবং শরীরের অন্যান্য সব ক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত থাকে। যেহেতু সমস্ত শারীরিক ক্রিয়া মস্তিষ্কের কার্যকারিতার উপর নির্ভরশীল, তাই এটি সুস্থ রাখা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যকর ডায়েট এবং সঠিক শরীরচর্চা দিয়ে মস্তিষ্ক সুস্থ রাখা সম্ভব।

আমাদের প্রতিদিনে রোজকার খাবার যে স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে সে কথা তো সকলেরই জানা। এমনকী বড় বড় রোগও নিয়ন্ত্রণ করা যায় ওষুধের পাশাপাশি সঠিক ডায়েট মেনে চললে। তবে খাবারের প্রভাব কেবল শরীরের উপর নয়, মস্তিষ্কের উপরেও পড়ে। অজান্তেই রোজকার জীবনে থাকা একাধিক পছন্দের খাবার নীরবে মস্তিষ্কের ক্ষতি করে চলেছে। বাড়িয়ে দিচ্ছে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস। তবে একদিন এই রোগ তৈরি হয় না, বা তার প্রভাব দেখাও যায় না। কিন্তু একবার সেই রোগগুলো শরীরে থাবা বসালে, তার কুপ্রভাব আজীবন বয়ে বেড়াতে হয়। খাবারের কারণে ডিমেনশিয়া থেকে শুরু করে, লিখতে পড়তে সমস্যা সহ ভুলে যাওয়া, ইত্যাদির মতো সমস্যা দেখা দেয়। আর এর নেপথ্যে কোন কোন খাবার আছে জেনে নিন।

কোন কোন খাবার নিঃশব্দে মস্তিষ্কের ক্ষতি করে চলেছে? 

নির্দিষ্ট খাবারের একটি তালিকা রয়েছে যা আমাদের মস্তিষ্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এগুলো বাদ দিতে পারলে মস্তিষ্ক-সম্পর্কিত সমস্যার ঝুঁকি হ্রাস করা সম্ভব-কিছু খাবার আমাদের মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। এতে আপনার স্মৃতি, মেজাজ নষ্ট হওয়া এবং ডিমেনশিয়ার মতো পরিস্থিতির ঝুঁকি বেড়ে যায়।

সুগার পানীয় বা আর্টিফিসিয়াল সুইটনার্স:

আর্টিফিসিয়াল সুগার সমৃদ্ধ পানীয়  প্রাকৃতিক রাসায়নিক সিগন্যালকে ব্যাহত করে। শরীরে প্রদাহ বাড়ায় এবং ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ায়। এই তালিকায় কোল্ড ড্রিঙ্কস, এনার্জি ড্রিঙ্কস, সোডা, এলকোহল জাতীয় পানীয়। অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবনে মস্তিষ্কে মারাত্মক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী অ্যালকোহল ব্যবহারের ফলে মস্তিষ্কের আয়তন হ্রাস, বিপাকীয় পরিবর্তন এবং নিউরোট্রান্সমিটারের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এর ফলস্বরূপ কর্সাকফের সিনড্রোম বিকাশ ঘটতে পারে। এই সিন্ড্রোম স্মৃতিশক্তি হ্রাস, দৃষ্টিশক্তিতে ব্যাঘাত, বিভ্রান্তি এবং অস্থিরতাসহ মস্তিষ্কের গুরুতর ক্ষতি করতে পারে।

সুগার ফ্রি পণ্য:

সুগার ফ্রি পণ্যগুলোতে থাকা কৃত্রিম মিষ্টি। ওজন কমানোর জন্য অনেকে সুগার ফ্রি খাবার খেতে পছন্দ করেন। অ্যাস্পার্টম ফেনিল্লানাইন, মিথেনল এবং অ্যাস্পার্টিক অ্যাসিড দিয়ে তৈরি। ইঁদুরের উপর পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, অসম্পূর্ণ স্মৃতিশক্তি এবং মস্তিস্কে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বৃদ্ধি করে অ্যাস্পার্টাম। অ্যাস্পার্টেট এড়ানোর জন্য, ডায়েট থেকে কৃত্রিম মিষ্টি এবং অতিরিক্ত চিনি বাদ দিন।

পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট:

পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটে সাদা ময়দা, সাদা চিনি এবং প্রক্রিয়াজাত শস্য অন্তর্ভুক্ত। পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট উচ্চ গ্লাইসেমিক সূচক থাকে যার অর্থ তারা খুব দ্রুত হজম হয়, ফলস্বরূপ হঠাৎ রক্তে শর্করার স্পাইক হয়। গ্লাইসেমিক সূচকযুক্ত খাবারগুলোকে মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপকে প্রভাবিত করতে দেখা গেছে। অন্য একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, বয়স্করা যারা প্রতিদিনের ক্যালোরির ৫৮% এর চেয়ে বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করেন তাদের হালকা মানসিক দুর্বলতা এবং স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি দ্বিগুণ।

অতিরিক্ত চর্বি-যুক্ত খাবার: 

এই ধরনের খাবার রোজ রোজ খেলে স্ট্রেস বাড়ে। মস্তিষ্কের কোষগুলো একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে বা সিগন্যাল পাঠাতে পারে না। নতুন জিনিস শেখায় ব্যাঘাত ঘটায়। এই তালিকায় থাকবে বার্গার, ফ্রাইস, কেক, কুকিজ, ইত্যাদি। এই খাবারগুলো ব্রেন প্লেগ তৈরি করে।

উচ্চ প্রক্রিয়াজাত প্রসেসড খাবার:

সসেজ থেকে শুরু করে বার্গার, স্যান্ডউইচ, সালামি, হ্যাম, নাগেটস, ইত্যাদি ধরনের খাবার কিন্তু শরীরের পাশাপাশি মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর। এগুলো মস্তিষ্কের সুগারের ব্যালেন্স গড়বড় করে দেয়। এর কারণে মনোযোগ দুর্বল হয়ে যায়। ফোকাস নড়ে যায়। মস্তিষ্কের কোষের ক্ষতি করে। বাড়িয়ে তোলে প্রদাহ।

সানা