জীবন বহমান কিন্তু প্রিয়জন, বন্ধু কিংবা ভালোবাসার মানুষের আকস্মিক প্রস্থান আমাদের অনুভূতিকে তছনছ করে দেয়। শোকের সাথে তখন যোগ হয় তীব্র ধাক্কা, ভয় আর এক অমোঘ অবিশ্বাস। মানুষ তখন প্রিয়জনের অনুপস্থিতি এবং ঘটনার আকস্মিক ভার—দুটোকেই একসাথে বহন করতে হিমশিম খায়।
মন ও শরীরের ওপর শোকের প্রভাবঃ আকস্মিক ক্ষতির মুখে মানুষ সাধারণত কয়েকটি মানসিক স্তরের মধ্য দিয়ে যায়। মস্তিষ্ক যখন একসাথে এত বেশি মানসিক যন্ত্রণা নিতে পারে না, তখন সে নিজেকে অবশ বা অসাড় করে ফেলে। একজনের প্রস্থান অন্য কাউকে হারানোর ভয় বাড়িয়ে দেয়। মনে তৈরি হয় তীব্র নিরাপত্তাহীনতা। ‘যদি আমি তখন সেখানে থাকতাম’ বা ‘যদি শেষবার এটা বলতাম’—এমন কাল্পনিক আফসোস বা ‘গিল্ট’ মানুষকে কুঁড়ে কুঁড়ে খায়। শোক কেবল মনের নয়, শরীরেরও। অতিরিক্ত ক্লান্তি, অনিদ্রা, ক্ষুধামন্দা কিংবা খাবারে অরুচি, মাথা ও পেট ব্যথা এমনকি মনোযোগ কমে যাওয়াও শোকের স্বাভাবিক শারীরিক প্রতিক্রিয়া।
শোক সামলানোর পথঃ শোক থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো জাদুকরী মন্ত্র নেই, তবে নিজেকে গুছিয়ে নিতে নিচের পদক্ষেপগুলো সহায়ক হতে পারে:
আবেগ আড়াল করবেন নাঃ নিজেকে অনুভব করার সুযোগ দিন। কান্না পাওয়া, চিৎকার করা কিংবা ডায়েরিতে মনের কথা লেখা আপনার আবেগ প্রশমনের উপায় হতে পারে।
শরীরের যত্নঃ মন খারাপের সময় শরীরের যত্ন নেওয়া কঠিন, তবুও হালকা ব্যায়াম, নিয়মিত খাবার ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম শোকের ধকল সইতে শক্তি জোগায়।
স্মৃতিকে যাপন করাঃ ছবি, গল্প বা কোনো বিশেষ আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রিয়জনের স্মৃতিকে ইতিবাচকভাবে জীবন্ত রাখুন।
ছোট ছোট পদক্ষেপঃ জীবন থমকে থাকলেও নিজেকে একদম গুটিয়ে নেবেন না। বাইরে বের হওয়া কিংবা ছোট কোনো কাজে অংশ নেওয়া হতে পারে ফিরে আসার প্রথম ধাপ।
শোকাহত মানুষের পাশে দাঁড়াবেন যেভাবেঃ আপনার কোনো পরিচিত মানুষ শোকাতুর হলে তাকে বিচার করতে যাবেন না। চুপচাপ তার কথা শুনুন। কোনো অযৌক্তিক আশ্বাস বা ‘সব ঠিক হয়ে যাবে’ গোছের কথা না বলে বরং ব্যবহারিক সাহায্য করুন—যেমন তার জন্য খাবার আনা বা ঘরের কাজে সহায়তা করা। নিয়মিত খোঁজ রাখুন, যাতে সে নিজেকে একা মনে না করে।
সর্বশেষ যে ব্যাপারটি মাথায় রাখবেন- শোকের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। এটি ধীরগতিতে ও এলোমেলোভাবে চলে। কারো ক্ষেত্রে এটি মাসখানেক, কারো ক্ষেত্রে বছরও লেগে যেতে পারে। নিজের অনুভূতিকে সম্মান জানানোই বড় কথা। প্রিয়জনের স্মৃতিকে হৃদয়ে গেঁথে রেখে জীবনকে নতুন কোনো অর্থপূর্ণ পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই হলো শোককে জয় করার সার্থকতা।
-সানা










