২০২৪-এর রাজনৈতিক অস্থিরতার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাস হয়ে উঠেছে সহিংসতা ও অরাজকতার কেন্দ্র। পোষ্য কোটা ইস্যুতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সংঘর্ষ, আওয়ামীপন্থি ডিনদের পদত্যাগের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা, হুমকিমূলক বক্তব্য—এসব ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার।
পোষ্য কোটার ইস্যুতে সহিংসতা
চলতি বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষক-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১০ শর্তসাপেক্ষে পোষ্য কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা ২১ সেপ্টেম্বর উপ-উপাচার্য মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীনকে গাড়িতে বন্দী করেন এবং তার বাসভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে জুবেরী ভবনের সামনে উপ-উপাচার্যের গলা চেপে ধরা ও উপ-রেজিস্ট্রার রবিউল ইসলামের দাড়ি টানার ঘটনা ঘটে। এসবের পিছনে রাকসুর জিএস আম্মারের নেতৃত্বের অভিযোগ ওঠে। ফলে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম কর্মবিরতি এবং অফিসার্স সমিতি ক্যাম্পাস শাটডাউন ঘোষণা করে। তদন্ত কমিটি গঠন হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।
ডিনদের পদত্যাগের আলটিমেটাম ও তালাবাজি
আওয়ামীপন্থি ডিনদের পদত্যাগের দাবিতে ‘অপারেশন জিরো টলারেন্স ফর ফ্যাসিজম’ ঘোষণা দেন আম্মার। ১৮ ডিসেম্বর ফেসবুকে আলটিমেটাম দেন তিনি। ২১ ডিসেম্বর ছয় ডিনের অঘ্রাণে গণমাধ্যমের সামনে তাদের ফোন করে পদত্যাগপত্র দেখান। এরপর ডিনস কমপ্লেক্স, প্রশাসন ভবনসহ বিভিন্ন দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যায় প্রশাসন ডিনদের অব্যাহতি দেয়।
হুমকি ও শিক্ষকদের প্রতিবাদ
ইনকিলাব মঞ্চের শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে বিক্ষোভে আম্মার হুঙ্কার দেন, “আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পক্ষে যারা থাকবে তাদের জুতা খুলে মুখে মারব, প্রশাসন ভবনের সামনে বেঁধে রাখব।” এর প্রতিবাদে বিএনপি-জিয়া সংযোজিত শিক্ষক সংগঠনগুলো (জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম, ইউট্যাব, জিয়া পরিষদ) শিক্ষক নিরাপত্তা দাবি করে। তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হামলাকারী শিক্ষকদের বিচার ও নির্বাচনের পর শিক্ষক নিয়োগ বন্ধের দাবি তোলে। কম্পিউটার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী জাহিদ নিরাপত্তা শঙ্কায় ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ঘোষণা দেন।
ছাত্রদলের অভিযোগ ও আম্মারের জবাব
শাখা ছাত্রদল এসবকে ‘অরাজকতার ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করে। শিক্ষার্থী নোমান ইমতিয়াজ বলেন, “রাবি পড়াশোনার জায়গা নয়, জাতীয় রাজনীতির ক্লাব হয়ে গেছে।” গণ যোগাযোগ বিভাগের অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “দায়িত্বশীল ব্যক্তির অস্বাভাবিক আচরণ উদ্বেগজনক।” প্রক্টর মাহবুবর রহমান বলেন, “ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি ভালো নয়।”
আম্মার বলেন, “আমি সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করি। বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকরাই বিরক্ত হয়। নিরপেক্ষ শিক্ষক কেউ নেই। আমি দলীয় নই, শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করে যাব।”










