মাসকট হয়ে বাবার ছায়া নিয়ে ফিরছে জোটার দুই সন্তান

ম্যাচের শুরুতেই দেখা যাবে এক হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য। দুই দলের মাসকটের সঙ্গে মাঠে প্রবেশ করবে জোটার দুই অবোধ শিশু—দিনিস ও দুয়ার্তে। গত অগাস্টে লিভারপুল ও উলভসের ম্যাচে তাদের মা রুতে কার্দোসোর সঙ্গে তারা গ্যালারিতে উপস্থিত থাকলেও, আজ তারা সরাসরি সবুজ ঘাসে পা রাখবে বাবার স্মৃতি বহন করে।

ফুটবল মাঠে লড়াই চিরকালই উত্তেজনার, কিন্তু আজকের ম্যাচটি শুধু তিন পয়েন্টের নয়; বরং এক চিরবিদায় আর অমলিন স্মৃতির। লিভারপুল বনাম উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্স—এই দুই দলের জার্সিতেই মাঠ মাতিয়েছেন তিনি। আজ যখন অ্যানফিল্ডে দল দুটি মুখোমুখি হবে, গ্যালারিতে তখন উৎসবের চেয়ে বিষাদের সুরই বেশি বাজবে। কারণ, পর্তুগিজ তারকা দিয়োগো জোটা আর নেই।

মাঠের বীর, মনের রাজা

উলভারহ্যাম্পটনে তিন মৌসুমের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর ২০২০ সালে অ্যানফিল্ডে তরী ভিড়িয়েছিলেন জোটা। লিভারপুলের গত মৌসুমের লিগ জয়ে তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য। ক্লাবের প্রতি তাঁর এই নিবেদনকে সম্মান জানিয়ে লিভারপুল কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে তাঁর পরিহিত ‘২০ নম্বর’ জার্সিটি আজীবনের জন্য অবসরে পাঠিয়েছে। অর্থাৎ, অ্যানফিল্ডে আর কেউ কখনও এই নম্বর পরে মাঠে নামবে না।

সতীর্থদের চোখে জল

দুর্ঘটনার দুই সপ্তাহ আগেই বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন জোটা। জীবনের নতুন ইনিংস শুরু করতে না করতেই এমন বিয়োগান্তক বিদায় স্তব্ধ করে দিয়েছিল ফুটবল বিশ্বকে। উলভস এবং লিভারপুল—উভয় দলেই তাঁর অনেক ঘনিষ্ঠ বন্ধু রয়েছেন। আজকের ম্যাচে জয়-পরাজয় ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠছে এক প্রিয় সতীর্থের প্রতি ভালোবাসা।

উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে মাত্র ২৮ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই প্রতিভাবান ফরোয়ার্ড। স্পেনের থামোরা প্রদেশে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি। শোকের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল সেই একই দুর্ঘটনায় তাঁর ভাই আন্দ্রে সিলভার মৃত্যু। জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়গুলোতে যারা তাঁকে কাছে পেয়েছিলেন, সেই দুই ক্লাবের লড়াইয়ের দিনে আজ তাঁকে বিশেষভাবে স্মরণ করা হবে।

মাঠে হয়তো আজ টানটান উত্তেজনা থাকবে, কিন্তু গ্যালারি থেকে ভেসে আসা প্রতিটি চ্যান্টে ধ্বনিত হবে একটিই নাম—দিয়োগো জোটা। তিনি নেই, কিন্তু অ্যানফিল্ডের প্রতিটি ঘাসের ডগায় আর সমর্থকদের হৃদয়ে ২০ নম্বর জার্সিটি আজও অম্লান।

-এম. এইচ. মামুন